যশোরের কেশবপুরে ডিজিটাল সহিংসতার অভিযোগের পর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারিয়া ইয়াসমিন তৃষার (১৫) মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে মানবাধিকার ও গবেষণাভিত্তিক সংস্থা রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশ (রিইব)। সংস্থাটির প্রতিনিধি দল পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানায় এবং আইনি সহায়তাসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে রিইব কর্তৃক গঠিত উপজেলা সিএসও গ্রুপের সভাপতি মো. হারুনুর রশীদ বুলবুল, রিইবের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর হোসনেয়ারা খানম লাবনী ও উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল তৃষার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
এ সময় তৃষার বাবা আলমগীর হোসেন সুষ্ঠু তদন্ত, নিরপেক্ষ ময়নাতদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, একই গ্রামের আব্দুল আহাদের ছেলে নিশান (২৪) নানা প্রলোভনে তার মেয়েকে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। একপর্যায়ে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
আলমগীর হোসেন বলেন, “আমার মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সুষ্ঠু তদন্ত ও সঠিক ময়নাতদন্ত প্রয়োজন। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ঘটনার পর থেকে আমাদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।”
রিইবের প্রতিনিধি দল পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে জানায়, তারা মানবিক ও আইনি সহায়তার বিষয়ে পরিবারের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
এ বিষয়ে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোছা. রোকসানা খাতুন বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সকল তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও পুলিশ কাজ করছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।