খুলনা :
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে খুলনার দাকোপ উপজেলাজুড়ে টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অব্যাহত বৃষ্টিপাতে উপকূলীয় এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ছন্দপতন ঘটেছে। সোমবার (৭ জুলাই) সকাল থেকেও থেমে থেমে বৃষ্টি ও দমকা বাতাস অব্যাহত থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের।
খুলনা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে গেছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতি আরও দুই থেকে তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। বর্তমানে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে চালনা পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সড়ক প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং কাঁচা সড়কগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। টানা বৃষ্টির কারণে অনেকেই কাজে যেতে পারছেন না, ফলে বন্ধ হয়ে গেছে তাদের দৈনিক আয়।
চালনা বাজারের সবজি বিক্রেতা পান্না গাজী বলেন, “বৃষ্টির কারণে বাজারে ক্রেতা কম আসছে। বিক্রিও অনেক কমে গেছে। তিন দিন ধরে ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।”
ভ্যানচালক মিলন চৌকিদার বলেন, “সকাল থেকে ভ্যান নিয়ে বসে আছি, কোনো যাত্রী নেই। তিন দিন ধরে আয় প্রায় বন্ধ।”
টিটাপল্লী এলাকার রাজমিস্ত্রী জিন্নাত আলী বলেন, “বৃষ্টির কারণে কাজে যেতে পারছি না। প্রতিদিনের আয়ে সংসার চলে। এখন সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।”
স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি এখনো অব্যাহত রয়েছে। কখনো ভারী বর্ষণ, আবার কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ডোবা-নালা ও খাল উপচে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. মিজানুর রহমান বলেন, “বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আবহাওয়ার এ পরিস্থিতি আরও দুই থেকে তিন দিন থাকতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসন এবং