সাতক্ষীরা :
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার কাটাখালী অঞ্চলে কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্পের আওতায় খননকৃত ভেড়িবাঁধের মাটি অবৈধভাবে বিক্রি ও বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের জমি ভরাটে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে দিন-রাত ট্রাক ও ট্রলিযোগে মাটি পরিবহন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর দাবি, এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে নদী খনন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খননকৃত মাটি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এসব মাটি বিক্রি করে আসছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, প্রশাসনের চোখের সামনেই এই কার্যক্রম চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কপোতাক্ষ নদ খননের মাটি বিভিন্ন ইটভাটা, বসতভিটা, কৃষিজমি ও অন্যান্য স্থানে ভরাটের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে সরকারি সম্পদ ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নদী খননের মাটি অনুমতি ছাড়া বিক্রি বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
কপোতাক্ষ তীরবর্তী ইসলামকাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা আখতারুল ইসলাম বলেন, “কিছু ইটভাটার মালিক গায়ের জোরে জাতীয় স্বার্থের কপোতাক্ষ নদের ভেড়িবাঁধের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।”
এ বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজা স্বপ্না বলেন, “জনগণের ক্ষতি করে কেউ ব্যক্তিস্বার্থে সরকারি সম্পদ ব্যবহার করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খানকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।”
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে প্রশাসনের পদক্ষেপের মিল নেই। তাদের দাবি, এখনো অবাধে মাটি অপসারণ অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আতাউর রহমান বলেন, “বর্ষা মৌসুমে কপোতাক্ষ নদের পানি বাড়ছে। জরুরি ভিত্তিতে ভেড়িবাঁধের মাটি অপসারণ বন্ধ না করলে আশপাশের গ্রামগুলো ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকিতে পড়বে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্পের মাটি বিক্রির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি সম্পদের অপব্যবহার বন্ধ করে নদী খনন প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।