ব্রাহ্মণবাড়িয়া :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পাঁচ লাখ টাকা পাওনা নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ টানা তৃতীয় দিনেও সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। নতুন করে আরও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে তিন দিনে আহতের সংখ্যা অর্ধশতাধিক ছাড়িয়েছে। সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন।
রোববার (২৮ জুন) বিকেলে উপজেলার কালিকচ্ছ শহীদ মিনার এলাকায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়, যা মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় চলতে থাকে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সূর্যকান্দি গ্রামের ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন একই উপজেলার ধরন্তি গ্রামের আশিক ও আলালের কাছে পাঁচ লাখ টাকার চটা-পাটি বিক্রি করেছিলেন। প্রায় নয় মাস ধরে পাওনা টাকা না পেয়ে রোববার বিকেলে কালিকচ্ছ শহীদ মিনার এলাকায় তাদের কাছে টাকা দাবি করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে খাদিম মিয়া নামে এক যুবক টেঁটাবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
সোমবার নিহতের দাফন শেষে দুই পক্ষ আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কালিকচ্ছ বাজার এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত ১০ থেকে ১২টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। রাত পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ চলার পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুপুর পর্যন্ত কয়েক দফা সংঘর্ষের পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ওবায়দুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষ থামাতে সাউন্ড গ্রেনেডও ব্যবহার করতে হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি জানান।