দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

“চুরির অভিযোগে শিশুকে নির্যাতন, গ্রাম পুলিশ আটক”

12

নেত্রকোনা :

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় চুরির অভিযোগে ১২ বছর বয়সী এক শিশুর মাথা ন্যাড়া করে প্রকাশ্যে অপদস্থ করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ রতন রবিদাসকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের পাঁচগাঁও বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যায় প্রায় আড়াই মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে বাজারের এক হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী ক্যাশবাক্সে প্রায় সাড়ে আট হাজার টাকা রেখে পাশের দোকানে যান। ফিরে এসে টাকা না পেয়ে বিষয়টি আশপাশের ব্যবসায়ীদের জানান। এ সময় কয়েকজন দাবি করেন, ব্যবসায়ীর অনুপস্থিতিতে ওই শিশুকে দোকানের আশপাশে দেখা গেছে।

পরে স্থানীয় কয়েকজন শিশুটিকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। অভিযোগ অস্বীকার করলেও তার কাছে কিছু টাকা পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এরপর শিশুটিকে বাজারের শহীদ মিনার চত্বরে এনে মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয় এবং পরে তাকে বাজার ঘুরিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ রতন রবিদাস শিশুটির মাথা ন্যাড়া করছেন। এ সময় তিনি বলেন, শিশুটি আগেও চুরি করেছে এবং এবার হাতেনাতে ধরা পড়েছে। মারধরের পরিবর্তে লজ্জাজনক শাস্তি হিসেবে মাথার চুল কেটে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাটি ভিডিও করে ছড়িয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানান।

শিশুটির এক চাচা অভিযোগ করে বলেন, চুরির অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর না করে শিশুটিকে প্রকাশ্যে অপমান ও নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ রতন রবিদাস ও ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান পাঠান বলেন, একটি শিশুকে এভাবে প্রকাশ্যে অপদস্থ ও নির্যাতন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ঘটনায় জড়িত গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলমাকান্দা থানার তদন্ত পরিদর্শক সজল সরকার জানান, মূল অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।