দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

“মোংলায় হামলা মামলার বাদী শিক্ষিকাকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ”

30

মোংলা :

বাগেরহাটের মোংলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নাজমী খানমকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে না পাঠাতে অভিভাবকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, গত ১৭ জুন মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের পশ্চিম বাজিকরখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ফারুকুল ইসলাম মৃধা ও জাকির হাওলাদারের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি বিদ্যালয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলায় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ভাঙচুর, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তছনছ এবং বাধা দিতে গেলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নাজমী খানমকে লাঞ্ছিত করা হয়। এ সময় আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা বই-খাতা ফেলে বিদ্যালয় ত্যাগ করে।

ঘটনার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নাজমী খানম বাদী হয়ে মোংলা থানায় আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনে স্থানীয় ফারুক মৃধাসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

বাদী নাজমী খানম অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিপক্ষ ও তাদের সহযোগীরা তাকে এবং তার স্বামীকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। মামলা প্রত্যাহার না করলে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন অভিভাবকের মোবাইল ফোনে কল করে সন্তানদের বিদ্যালয়ে না পাঠানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এলাকায় একটি মব সৃষ্টি করে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। পাশাপাশি তার স্বামী মো. তরিকুল মৃধার মালিকানাধীন একটি চিংড়ি ঘেরে হামলা চালিয়ে মাছ লুটপাটের অভিযোগও করেন তিনি।

অন্যদিকে, মামলার প্রধান আসামি ফারুক মৃধা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ঠেকাতে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বর্তমানে এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন এবং কোনো ধরনের হামলা, ভাঙচুর বা হুমকির সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া বাদীপক্ষের দেওয়া নতুন অভিযোগও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।