মোল্লা, বাগেরহাট :
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় স্কুল টিফিনের খাবারে দেওয়া ডিম খেয়ে ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের ৯৮ নম্বর পূর্ব ধানসাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়মিত টিফিন হিসেবে সিদ্ধ ডিম দেওয়া হয়। ডিম খাওয়ার কিছুক্ষণ পর ১১ শিক্ষার্থী হঠাৎ পেটব্যথা, বমিভাব ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে রায়েন্দা গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলো—রুমানা, আব্দুন নূর, রাবেয়া, ফারিয়া, মিতু, সুমা, আফিফা, হুমায়রা, তামান্না, তানজিলা ও সিফা।
চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীরা জানায়, ডিম খাওয়ার পরপরই তাদের তীব্র পেটব্যথা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শাকিল কায়সার জানান, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে সবাই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
খাদ্য সরবরাহকারী আলিম আল রাজী মুক্তি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে গত ২৭ জুন নির্ধারিত দিনে ডিম সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। পরে রোববার ডিম বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ডিমের মধ্যে কোনোটি নষ্ট থাকায় এ ঘটনা ঘটতে পারে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার বলেন, রোববার সরবরাহ করা ডিম থেকেই বুধবার টিফিন প্রস্তুত করা হয়েছিল। সম্ভবত কয়েকটি ডিম নষ্ট থাকায় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনির আহমেদ বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বাইরে অবস্থান করায় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যেতে পারেননি। ফিরে এসে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অর্থিতা হাওলাদার বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। তদন্তে কারও গাফিলতি বা দায় প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।