মোংলা :
একুশে পদকপ্রাপ্ত তারুণ্যের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটের মোংলায় শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, গান ও কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়েছে।
রোববার সকালে মোংলার মিঠাখালীতে রুদ্র স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে কর্মসূচির সূচনা হয়। সকাল ৯টায় শোভাযাত্রা নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তার বাড়িতে দোয়া মাহফিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
সকাল ১০টায় কবির বাড়িতে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন রুদ্র স্মৃতি সংসদের সভাপতি সুমেল সারাফাত। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মিঠাখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহামুদ হাসান। এছাড়া বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নূর আলম, সাবেক প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন, প্রভাষক নজরুল ইসলাম ও কমিউনিস্ট পার্টির নেতা নাজমুল হকসহ অনেকে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আসাদুজ্জামান টিটো।
বক্তারা বলেন, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ছিলেন তারুণ্য, প্রতিবাদ ও সংগ্রামের প্রতীক। সমাজের বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সাহসী কণ্ঠে লিখেছেন। দেশের সংকটময় সময়ে তার কবিতা ও গান তরুণদের অনুপ্রাণিত করেছে এবং আজও প্রাসঙ্গিক।
আলোচনা শেষে কবির প্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘অন্তর বাজাও’-এর শিল্পীরা রুদ্রের গান পরিবেশন করেন।
উল্লেখ্য, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ স্বল্প জীবনে ‘উপদ্রুত উপকূল’, ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’, ‘মানুষের মানচিত্র’, ‘ছোবল’, ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’ ও ‘মৌলিক মুখোশ’সহ সাতটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। তার লেখা ও সুর করা জনপ্রিয় গান ‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ দুই বাংলাতেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ২০২৪ সালে তিনি মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হন।