মোরেলগঞ্জ :
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে কলেজছাত্র জাহিদুল ইসলাম হাওলাদার (২০)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ছোটবাদুরা গ্রামে জাহিদুলের কবরের পাশের সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে তার পরিবারের সদস্য, সহপাঠী এবং স্থানীয় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে নিহতের মা আছিয়া বেগম, বাবা মনিরুল ইসলাম, ভাই সাইফুল হাওলাদার, চাচা জামাল হাওলাদার, সহপাঠী আসিফ শেখ, পল্লী চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম, প্রতিবেশী আমিরোন বেগম ও মরিয়ম বেগমসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বক্তব্য দেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১ আগস্ট জাহিদুলের মরদেহ গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেলেও এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের দাবি, জাহিদুলকে হত্যার পর ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
স্বজনদের ভাষ্য, জাহিদুল চট্টগ্রামে একটি দোকানে চাকরি করতেন। সেখানে পার্শ্ববর্তী পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার এক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সম্পর্কের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাকে এলাকায় এনে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তাদের আরও অভিযোগ, হত্যার পর তার মুখে বিষ ঢেলে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে জাহিদুলের বাড়ির অদূরে একটি গাছ থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময় পুলিশ জানায়, মরদেহের মুখে বিষের আলামত পাওয়া গেছে এবং ঘটনাটি রহস্যজনক হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, “জাহিদুলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”