ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের সক্রিয়তার অভিযোগ সামনে এসেছে। গোপন সংকেত (কোড) বলতে না পারায় ট্যুরিস্ট ভিসায় ৭৬ বাংলাদেশিকে মালয়েশিয়া পাঠানোর একটি পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এ ঘটনায় বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিভিল এভিয়েশন) এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ইউনিট যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নির্দিষ্ট গোপন কোড ব্যবহার করে যাত্রীদের বিভিন্ন নিরাপত্তা ধাপ অতিক্রম করিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে আসছিল। নির্ধারিত কোড জানলেই চক্রের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে দ্রুত ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করতেন।
সর্বশেষ গত শনিবার (৪ জুলাই) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মালয়েশিয়াগামী বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটের জন্য ব্যবহৃত কোড ছিল ‘শাপলা’। তবে বোর্ডিং গেটে পৌঁছে কয়েকজন যাত্রী ওই কোড বলতে ব্যর্থ হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে তাদের পাসপোর্ট, ভিসা ও অন্যান্য কাগজপত্র পুনরায় যাচাই করে একাধিক অসংগতি পাওয়া যায়। এতে ৭৬ বাংলাদেশিকে মালয়েশিয়া পাঠানোর পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।
ঘটনার পর তদন্তে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে সক্রিয় একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততার অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ৭৬ যাত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মালয়েশিয়াগামী ফ্লাইটের টিকিট সংগ্রহ করলেও কীভাবে জাল বা অসংগতিপূর্ণ ভিসাধারীরা বোর্ডিং কার্ড পেলেন এবং কোন ট্রাভেল এজেন্সি একসঙ্গে এত সংখ্যক যাত্রীর টিকিট ইস্যু করেছে, তা নিয়ে এখনো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো তদন্ত শুরু হয়নি।
এ ঘটনায় মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।