দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস, নতুন ভবনের দাবিতে পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

29

কেশবপুর (যশোর)  :
যশোরের কেশবপুর উপজেলার পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২৭ বছর আগে নির্মিত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১০৭ জন শিক্ষার্থী ও ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। ১৯৯৯ সালে নির্মিত তিন কক্ষবিশিষ্ট একাডেমিক ভবনটিই এখন শিক্ষা কার্যক্রমের একমাত্র ভরসা। একটি কক্ষ অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় বাকি কক্ষগুলোতে গাদাগাদি করে পাঠদান চলছে। এমনকি শ্রেণিকক্ষের সংকট মেটাতে সিঁড়িঘরও ক্লাসরুম হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে। সরকারি ক্ষুদ্র মেরামত খাতের অর্থে নির্মিত একটি ছোট টিনশেডও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

সরেজমিনে দেখা যায়, সীমিত জায়গায় একাধিক শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে গিয়ে শিক্ষকরা হিমশিম খাচ্ছেন। ভবনের নাজুক অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। তাদের ভাষ্য, প্রতিদিন সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমির হোসেন বলেন, বর্তমান ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরোনো এবং বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একাধিকবার নতুন ভবনের জন্য আবেদন করা হলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের (এসএমসি) সভাপতি মো. আব্দুর জলিল বলেন, শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিচালিত হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই নতুন ভবনের বরাদ্দ দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করা জরুরি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরাপদ অবকাঠামোর অভাব অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের ভবনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরই মধ্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পাঠদান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটাই দাবি—আর কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষা নয়, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।