দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

হাজারো চ্যালেঞ্জ নিয়ে মেক্সিকোর সামনে ইংল্যান্ড

1

১৯৮৬ বিশ্বকাপ। দিয়েগো মারাদোনার আলোচিত দুই গোলে স্বপ্ন ভেঙেছিল ইংল‍্যান্ডের। ঐতিহাসিক সেই আসতেকায় ৪০ বছর পর আবার মাঠে নামছে ইংলিশরা। হাজারো চ্যালেঞ্জ সঙ্গী করে এবার তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক মেক্সিকো।

মেক্সিকো সিটিতে শেষ ষোলোর ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ৬টায়।

এই ম্যাচে নানান প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে ইংল্যান্ডকে। আসরের সহ-আয়োজকদের বিপক্ষে তাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ আসতেকার উচ্চতা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭ হাজার ২শ ফুট উচুতে এ মাঠের অবস্থান। উচ্চতার কারণে এ মাঠে গিয়ে, দম ফুরিয়ে হাঁসফাঁস করতে হয় প্রতিপক্ষদের।

সঙ্গে স্বাগতিক সমর্থকদের উৎপাত তো আছেই। শেষ বত্রিশে একুয়েডরের বিপক্ষে ২-০ গোলে জেতা ম্যাচের আগে স্বাগতিক দর্শকরা গ্যালারি তো মাতিয়ে রেখেছিলই, কিন্তু তার আগের রাত্রে তারা করেছিল আরেক কাণ্ড। একুয়েডরের টিম হোটেলের বাইরে রাতভর আতশবাজি ফুটিয়ে, হৈ-হুল্লোড় করে তাদের ঘুম হারাম করে দিয়েছিল!

সব বাধা মোকাবেলা করতে প্রস্তুত ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল।

“মেক্সিকোর বিপক্ষে আসতেকায় খেলা সম্ভবত সবচেয়ে সুন্দর এবং উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের একটি। সেখানে আমাদের জন্য অসংখ্য প্রতিকূলতা অপেক্ষা করবে, উচ্চতা তো অবশ্যই বড় একটা সমস্যা। কেননা, চার দিনে এর সঙ্গে আমরা শারীরিকভাবে মানিয়ে নিতে পারব না। এটা পারা একেবারেই অসম্ভব।”

মেক্সিকোও প্রস্তুত নিজেদের মাঠে সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতার সাক্ষি হতে। দলটির মিডফিল্ডার আলভারো ফিদাও বললেন, খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিতে প্রস্তুত তারা।

“এই মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচ-সবাই এমন ম্যাচের স্বপ্নই দেখে। খেলোয়াড় হিসেবে সম্ভবত আমরা সবচেয়ে বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিতে যাচ্ছি। আমরা জানি, তাদের দলে ভালো খেলোয়াড় আছে; তারা কীভাবে খেলে। সর্বপরি, তাদের মাঝমাঠে শারীরিক শক্তিনির্ভর খেলোয়াড় আছে; সব পজিশনেই দারুণ খেলোয়াড় আছে। তারা আমাদের দুর্দান্ত প্রতিপক্ষ হবে।”

ম্যাচকে ঘিরে দেশজুড়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। ম্যাচের আগের দিন থেকেই শহরের প্রধান সড়কগুলোতে বিশাল স্ক্রিন বসানো হয়েছে, গাড়ির হর্ন বাজছে, আর সর্বত্র আলোচনার বিষয় একটাই – ইংল্যান্ডকে থামাতে পারবে কি মেক্সিকো।

আজতেকা স্টেডিয়ামকে বলা হয় মেক্সিকোর আধ্যাত্মিক ঘর। এখানে তারা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মাত্র দু’বার হেরেছে। এবারের বিশ্বকাপে এখনো কোনো গোল হজম করেনি দলটি। ইকুয়েডরের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় তাদের আক্রমণভাগের শক্তি প্রমাণ করেছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড এসেছে কঙ্গোর বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে হ্যারি কেনের জোড়া গোলে জয় নিয়ে। তবে রক্ষণভাগে দুর্বলতা তাদের বড় চিন্তার জায়গা।

ইংল্যান্ডের জন্য আজতেকা কখনোই সুখকর জায়গা নয়। ১৯৮৬ সালে এখানেই মারাদোনার “হ্যান্ড অব গড” গোল এবং তার পরের অবিশ্বাস্য একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড।

আরও আগে, ১৯৭০ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের শিরোপা ধরে রাখার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। সেই সময় নানা বিতর্ক, যেমন অধিনায়ক ববি মুরের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ, কিংবা গোলরক্ষক গর্ডন ব্যাংকসের রহস্যজনক অসুস্থতা, ইংল্যান্ডের অভিযানে ছায়া ফেলেছিল।

এবারও ইংল্যান্ডকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭,২০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত আজটেকায় খেলতে গিয়ে শ্বাসকষ্ট ও ফিটনেস সমস্যা দেখা দিতে পারে। দলটি ডালাস, আটলান্টা ও বোস্টনের আরামদায়ক পরিবেশে খেলে এসেছে, তাই হঠাৎ এই উচ্চতা ও আবহাওয়া তাদের জন্য বড় পরীক্ষা। ইংল্যান্ডের হোটেল ঘিরে স্থানীয় সমর্থকদের ভিড় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও চাপ বাড়িয়েছে।

মেক্সিকোতে এই ম্যাচকে দেখা হচ্ছে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল লড়াই হিসেবে। স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, ৪০ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্নে পুরো দেশ মেতে আছে। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন, বুকায়ো সাকা ও জুড বেলিংহামের মতো তারকাদের খেলা দেখার জন্যও আগ্রহ তুঙ্গে।

সব মিলিয়ে আজতেকায় ম্যাচটি শুধু কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নয়, বরং মেক্সিকোর জন্য গর্বের লড়াই এবং ইংল্যান্ডের জন্য ইতিহাসের ভার কাটিয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ। উত্তেজনা, আবেগ ও নাটকীয়তায় ভরা এই দ্বৈরথ বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে উঠতে যাচ্ছে।