দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

কেশবপুরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধ

25
 কেশবপুর:

যশোরের কেশবপুর উপজেলার লক্ষ্মীনাথকাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পর উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন বিদ্যালয় পরিদর্শন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০১৩ সালের ১ জুলাই সরকারি হওয়া লক্ষ্মীনাথকাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন শিক্ষক বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) সরেজমিনে বিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষের আপত্তির কারণে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিরোধের প্রভাব শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতির ওপর পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন অভিভাবকের দাবি, কিছু মানুষ বিভিন্নভাবে অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন।

কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র সরকারকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, “আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে আসতে বাধা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. শাহিনুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অপ্রয়োজনীয় বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু মুসা বলেন, “অভিভাবকদের মতামতের ভিত্তিতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে অভিভাবকদের নিজেদের মধ্যে মতবিরোধের কারণে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।”

অভিভাবক নিলুফা বেগম, হাফিজা খাতুন ও দেলারা বেগম বলেন, কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেই সমস্যার সূত্রপাত হয়েছে। তারা দ্রুত বিরোধের স্থায়ী সমাধান এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবি জানান।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত বিরোধ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর। তারা প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে পাঠদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।