দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

কেশবপুরে শিশুদের ভয় দেখিয়ে বিদ্যালয়বিমুখ করার অভিযোগ

92

কেশবপুর :

যশোরের কেশবপুর উপজেলার লক্ষ্মীনাথকাটি গ্রামে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিদ্যালয় থেকে দূরে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে প্রায় ২০০ জন এলাকাবাসীর স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানা গেছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২০২৬ সালে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কয়েকজন ব্যক্তি নিয়মবহির্ভূতভাবে কমিটির সদস্য হওয়ার চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হওয়ার পর তারা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু মুসার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিভিন্ন দপ্তরে অনিয়ম ও অযোগ্যতার অভিযোগে আবেদন করেন।

ওই অভিযোগের পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার উদ্যোগে স্থানীয় এলাকাবাসীকে নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, সভায় উপস্থিত অধিকাংশ মানুষ প্রধান শিক্ষক মো. আবু মুসার বিদ্যালয়ের প্রতি আন্তরিকতা ও অবদানের বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দেন। এ সময় উপস্থিত প্রায় ২০০ জনের স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, সভায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করে প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। উপস্থিত এলাকাবাসী ওই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

তবে অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সভার পরদিন বিদ্যালয় চলাকালে কয়েকজন ব্যক্তি ও পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করা হয়। সেখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সামনে প্রধান শিক্ষক মো. আবু মুসার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ওই সময় বিদ্যালয়গামী কয়েকজন শিশুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে কোনো কোনো অভিভাবক সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে পাহারা দিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন। পরবর্তী সময়েও কিছু শিশু ও অভিভাবককে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

এলাকাবাসীর পক্ষে আব্দুল গফুর বলেন, শিশুদের সামনে শিক্ষককে নিয়ে বিরোধ বা কোনো ধরনের আন্দোলন করা হলে তাদের কোমল মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ব্যক্তিগত বা ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত কোনো বিরোধ থাকলে তা প্রশাসনিকভাবে সমাধান করা উচিত। কোনোভাবেই শিশুদের ভয় দেখিয়ে বিদ্যালয় থেকে দূরে রাখা উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু মুসা বলেন, বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় এবং শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে বিদ্যালয়ে আসতে পারে, সেটিই তাঁর প্রধান প্রত্যাশা।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দেওয়া লিখিত আবেদনে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ, ঘটনার তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করবে।