কেশবপুর :
যশোরের কেশবপুরে তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির এক নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তবিবুর রহমান নামে ওই নেতার ডান হাত ও ডান পা ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি কেশবপুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার কাবিলপুর গ্রামের আওয়ালগাতি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় কাবিলপুর গ্রামের কামাল উদ্দীনের ছেলে সেলিম (৩০) এবং একই গ্রামের সিদ্দিকের ছেলে আবু সাঈদ আওয়ালগাতি বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করেন—এমন অভিযোগ করেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও থানা বিএনপির সদস্য তবিবুর রহমান প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তি তবিবুর রহমানের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, হামলাকারীদের হাতে কাঠের বাটামসহ বিভিন্ন লাঠি ছিল এবং ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল তবিবুর রহমানের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার ডান হাত ও ডান পায়ে আঘাত লাগে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তাকে কেশবপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেহেনেওয়াজ জানান, তবিবুর রহমানের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসায় তার ডান হাত ও ডান পা ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদ করায় তবিবুর রহমানের ওপর হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোছা. রোকসানা খাতুন বলেন, হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএনপি নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত হলে হামলার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।