ঢাকা :
সবার জন্য সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে কেবল আধুনিক হাসপাতাল বা উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারের একটি হলে ‘সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নভোথিয়েটার প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী এ ইনোভেশন ফেয়ার আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলাটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এতে সার্বিক সহযোগিতা করছে স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশন্স লিমিটেড।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের অনেক রোগী জটিল অবস্থায় পৌঁছানোর পর বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। ঘরের কাছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা না থাকায় তাদের দূর-দূরান্তে যেতে হয়। তাই শুধু চিকিৎসাকেন্দ্রিক না হয়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে রোগ প্রতিরোধমুখী করতে হবে, যাতে রোগ জটিল রূপ ধারণের আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
দেশের ৯০ হাজারেরও বেশি গ্রামে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা গেলে প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে হৃদরোগ, ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক সামাজিক স্ক্রিনিং ও ধারাবাহিক মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বার্ধক্যজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা, বিশেষ করে ডিমেনশিয়া ও পারকিনসন্স রোগের চিকিৎসা প্রস্তুতির দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ ধীরে ধীরে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তারা কমিউনিটি পর্যায়ে দীর্ঘস্থায়ী রোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রসূতি সেবায় ভূমিকা রাখবেন।
গর্ভবতী নারী ও শিশুদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে বিশেষায়িত হাসপাতালে রোগী স্থানান্তরের জন্য কার্যকর রেফারাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, উদ্ভাবন মানেই কেবল ব্যয়বহুল যন্ত্র তৈরি বা নতুন অ্যাপস নয়; সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধানই প্রকৃত উদ্ভাবন। বাংলাদেশের শক্তিশালী ওষুধ শিল্প, গবেষক ও ডিজিটাল প্রযুক্তিকে একসূত্রে এনে সমন্বিত সেবার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।