চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জে বিএসআরএমের চালান থেকে চুরি হওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উদ্ধার ও গ্রেফতারের বিষয়টি জানানো হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপারের নির্দেশনা ও জোরারগঞ্জ থানা-পুলিশের সমন্বিত অভিযানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব রড উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন বিএসআরএম কোম্পানি থেকে বিভিন্ন আকারের ১৩ টন লোহার রড ট্রাকযোগে সুনামগঞ্জে পাঠানো হচ্ছিল। পথে ট্রাক থেকে রডগুলো চুরি হয়ে যায়।
ঘটনার পর চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে জোরারগঞ্জ থানা-পুলিশ। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিমের তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুদসহ পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়।

কর্ণফুলীতে ৫৭৪ গ্যাস সিলিন্ডার আত্মসাৎ, কক্সবাজারে দুই আসামি গ্রেফতার
অভিযানের ধারাবাহিকতায় ১৯ আগস্ট বারইয়ারহাট এলাকা থেকে মো. রিয়াদ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন তারাবো এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিয়াদের আত্মীয় জাকিরের বাসা থেকে ট্রাকের হেলপার মো. হাদিছ মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরার মহম্মদপুর থানাধীন জাঙ্গালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবুল বাশার ওরফে বাঁশিকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, আবুল বাশারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই চক্রের মূলহোতা হিসেবে জাহাঙ্গীরের নাম পাওয়া যায়। এরপর তার বসতঘর ও মহম্মদপুর বাজারের ‘আয়ান এন্টারপ্রাইজ’ নামের দোকানে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে চুরি যাওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া, ফরিদপুরের মধুখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া রড বহনকারী ট্রাকটিও খালি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং আন্তঃজেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে চুরি যাওয়া বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।