নিরাপদ ও মানসম্মত মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে দেশের প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে আধুনিক মিট প্রসেসিং সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতকে আধুনিক, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত করতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে ১৩টি মিট প্রসেসিং সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় এ ধরনের আধুনিক কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, এসব কেন্দ্র চালু হলে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে মাংস প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ করা যাবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদেশে মাংস রপ্তানির সুযোগও তৈরি হবে।
নিরাপদ খাদ্যে উৎপাদন পর্যায়েই গুরুত্ব
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদনের শুরু থেকেই গুণগত মানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাটির গুণগত মান পরীক্ষা, নিরাপদ পশুখাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খামারিদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, উৎপাদনকারী, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত
প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, আগের সরকারের সময়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর খাতটি পুনর্গঠনে কাজ করছে।
তিনি বলেন, যেখানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেখানেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশেই তৈরি হবে প্রাণিসম্পদের ভ্যাকসিন
প্রাণিসম্পদ গবেষণায়ও অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) সম্প্রতি দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছে। আগে এসব ভ্যাকসিন বিদেশ থেকে আমদানি করতে হলেও এখন দেশে উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
নতুন চিড়িয়াখানা ও সাফারি পার্কের পরিকল্পনা
জাতীয় চিড়িয়াখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও বরিশালে নতুন চিড়িয়াখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন ও প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে। নতুন সাফারি পার্ক স্থাপনের বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
গবাদিপশুর খাদ্য উৎপাদনে নতুন উদ্যোগ
অস্ট্রেলিয়া থেকে উচ্চ ফলনশীল পশুখাদ্য ঘাস দেশে আনা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ৮৫০ জন খামারিকে এ ঘাস চাষের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘাস ব্যবহারে পশুর খাদ্য ব্যয় কমবে, দুধ ও মাংস উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানিনির্ভর পশুখাদ্যের ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মৎস্য খাতের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের সহায়তায় ২৪ কোটিরও বেশি টাকা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, খামারিদের আয় বাড়ানো, মাংস ও দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে মানসম্মত প্রাণিজ খাদ্য সরবরাহ করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।