দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

প্রচণ্ড গরমে কেশবপুরে তালশাঁসের চাহিদা তুঙ্গে, দ্বিগুণ দামে বিক্রি

30

যশোর :

তীব্র তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস করছে জনজীবন। প্রচণ্ড গরমে শরীরকে শীতল রাখতে ও পানিশূন্যতা দূর করতে কেশবপুরে মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে কচি তালের শাঁস বা তালশাঁস। ফলে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কের পাশে বেড়েছে তালশাঁসের দোকান, আর ক্রেতাদের ভিড়ে জমে উঠেছে বেচাকেনা।

মিষ্টি স্বাদ, কোমল গঠন ও প্রাকৃতিক শীতলতার কারণে গ্রীষ্মকালের অন্যতম জনপ্রিয় ফল হিসেবে পরিচিত তালশাঁস। বিশেষ করে জ্যৈষ্ঠ মাসের দাবদাহে এটি শরীরে প্রশান্তি এনে দেয় বলে অনেকেই ডাবের বিকল্প হিসেবে তালশাঁস বেছে নিচ্ছেন। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার তালশাঁসের দামও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সাবদিয়া মোড়, হাবাসপোল মোড়, শ্রীগঞ্জ ব্রিজ এলাকা, হাসপাতাল মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে তালশাঁস বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে একটি তালের শাঁস ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর ৫ থেকে ১০ টাকার মধ্যে ছিল।

সাবদিয়া মোড়ের বিক্রেতা মাসুদ জানান, বছরের বেশিরভাগ সময় তিনি কৃষিকাজ করেন। তবে গ্রীষ্ম মৌসুমে তালশাঁস বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করেন। তিনি বলেন, “গরম যত বাড়ছে, তালশাঁসের বিক্রিও তত বাড়ছে। প্রতিদিন কয়েকশ টাকা লাভ হয়, যা সংসারের খরচে সহায়তা করে।”

হাবাসপোল এলাকার বিক্রেতা মতিয়ার রহমান জানান, গ্রামের বিভিন্ন মালিকের কাছ থেকে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় তালগাছের ফল কিনে সংগ্রহ করা হয়। এরপর বিশেষভাবে তৈরি বাঁশের মই ব্যবহার করে তাল নামিয়ে বাজারে বিক্রি করা হয়। তিনি বলেন, “প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত লাভ থাকে।”

কাটাখালী বাজারের বিক্রেতা রমজান আলী জানান, একটি তালে সাধারণত দুই থেকে তিনটি শাঁস পাওয়া যায়। বর্তমানে প্রতি শাঁস ১০ টাকা থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ কম এবং চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়েছে। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকার তালশাঁস বিক্রি করে খরচ বাদে প্রায় ৫০০ টাকা আয় করেন বলেও জানান তিনি।

ক্রেতাদের মধ্যেও তালশাঁসের জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজ ও রিপন বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার দাম অনেক বেশি। আগে ৪-৫ টাকায় যে শাঁস পাওয়া যেত, এখন তার জন্য ১০-২০ টাকা দিতে হচ্ছে। তবুও গরমে স্বস্তি পাওয়ার জন্য তালশাঁস কিনছি।”

ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী রাজা বলেন, “এবারের গরম অনেক বেশি। আখের রসের পাশাপাশি তালশাঁসও আমাদের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই খাচ্ছি। তবে দামটা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।”

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রেহনেওয়াজ বলেন, “কচি তালের শাঁসে প্রচুর জলীয় অংশ থাকে, যা শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ ও পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তাই গরমের সময়ে মানুষের কাছে এর চাহিদা বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক।”

প্রচণ্ড গরমে কেশবপুরের মানুষের কাছে তালশাঁস এখন শুধু একটি মৌসুমি ফল নয়, বরং স্বস্তি ও প্রশান্তির অন্যতম প্রাকৃতিক উৎস হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এই মৌসুমি ব্যবসা স্থানীয় অনেক ক্ষুদ্র বিক্রেতার আয়ের নতুন সুযোগও তৈরি করেছে।