দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

পরিবারের প্রবীনদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াবেন যেভাবে

26

পরিবারের বয়স্ক সদস্যরা একটি পরিবারের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার। তাদের জীবনের দীর্ঘ পথচলার গল্প, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের জন্য মূল্যবান সম্পদ। কিন্তু ব্যস্ত জীবনযাপন, প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ এবং প্রজন্মগত ব্যবধানের কারণে অনেক সময় তাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা বা সময় কাটানো হয়ে ওঠে না। এতে তারা একাকিত্ব, অবহেলা কিংবা মানসিক দূরত্ব অনুভব করতে পারেন। তাই সচেতনভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা প্রতিটি পরিবারের দায়িত্ব।

বয়স্ক মানুষদের অনেক সময় নিজের কথা বলার সুযোগ কম মেলে। তাই তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। কথা বলার সময় মাঝপথে বাধা না দিয়ে ধৈর্য ধরে শুনুন। এতে তারা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন এবং পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
সম্মান ও ধৈর্যের সঙ্গে কথা বলুন

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের শ্রবণশক্তি, স্মৃতিশক্তি বা তথ্য বোঝার গতি কিছুটা কমে যেতে পারে। তাই ধীরে, পরিষ্কার ও সহজ ভাষায় কথা বলুন। উচ্চস্বরে ধমকের ভঙ্গিতে নয়, স্বাভাবিক কণ্ঠে কথা বলুন। চোখে চোখ রেখে কথা বললে তারা আরও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। জাতীয় বার্ধক্য ইনস্টিটিউট একই ধরনের পরামর্শ দিয়েছে।

প্রতিদিন কিছু সময় দিন

দিনে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের আন্তরিক আলাপও অনেক বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তাদের দিনের খবর, শারীরিক অবস্থা, পুরোনো স্মৃতি কিংবা নাতি-নাতনিদের গল্প নিয়ে কথা বলুন। এই ছোট্ট সময়টুকুই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ হতে পারে।
প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখুন

যদি দূরে থাকেন, তাহলে নিয়মিত ফোন করুন বা ভিডিও কলে কথা বলুন। প্রয়োজন হলে তাদের স্মার্টফোন ব্যবহার শেখান। ভিডিও কলে পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে দেখলে তাদের মানসিক প্রশান্তি বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ভার্চুয়াল যোগাযোগও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা কমাতে সহায়ক।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মতামত নিন

পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বয়স্ক সদস্যদের মতামত জানতে চান। সব সিদ্ধান্ত তাদের মত অনুযায়ী না হলেও তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দিন। এতে তারা সম্মানিত ও প্রয়োজনীয় মনে করেন।

স্মৃতিচারণের সুযোগ তৈরি করুন

পুরোনো অ্যালবাম দেখা, অতীতের গল্প শোনা কিংবা পরিবারের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা বয়স্কদের আনন্দ দেয়। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মও পরিবারের ইতিহাস জানতে পারে।

স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত খোঁজ নিন

শুধু অসুস্থ হলেই নয়, নিয়মিত তাঁদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার খোঁজ নিন। ওষুধ ঠিকমতো খাচ্ছেন কি না, চিকিৎসকের পরামর্শ মানছেন কি না—এসব বিষয়েও আন্তরিকভাবে কথা বলুন। তবে সব সময় তাদের মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে সম্মান করুন।
প্রজন্মের পার্থক্যকে সম্মান করুন

সব বিষয়ে মতের মিল নাও থাকতে পারে। প্রযুক্তি, জীবনধারা বা সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে মতভেদ হওয়াটা স্বাভাবিক। তর্কে জড়ানোর পরিবর্তে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করুন এবং নিজের মতামতও সম্মানের সঙ্গে তুলে ধরুন।

বিশেষ দিন ছাড়াও যোগাযোগ রাখুন

শুধু ঈদ, জন্মদিন বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে নয়, সাধারণ দিনেও তাদের সঙ্গে কথা বলুন। নিয়মিত যোগাযোগই সম্পর্ককে গভীর করে।
ভালোবাসা প্রকাশ করতে কার্পণ্য করবেন না।

অনেক সময় একটি আন্তরিক বাক্য—‘আপনি কেমন আছেন?’, ‘আপনার কথা মনে পড়ছিল’ কিংবা ‘আপনাকে আমরা খুব ভালোবাসি’—একজন বয়স্ক মানুষের পুরো দিনটিকে আনন্দময় করে তুলতে পারে।

পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ কোনো দায়িত্ব নয়, বরং সম্পর্ককে জীবন্ত রাখার একটি সুন্দর উপায়। তাদের সময় দেওয়া, মন দিয়ে শোনা, সম্মান দেখানো এবং নিয়মিত খোঁজ নেওয়া—এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই পরিবারে ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক আস্থা বাড়িয়ে তোলে। আজকের ব্যস্ত জীবনে কয়েক মিনিটের আন্তরিক কথোপকথনও একজন বয়স্ক মানুষের কাছে অমূল্য হয়ে উঠতে পারে।- সূত্র- রাইজিং বিডি