দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

“চাকরির মেয়াদ শেষে অধ্যক্ষের স্বাক্ষর, মোরেলগঞ্জে উত্তেজনা”

18

মোরেলগঞ্জ :
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার গুলিশাখালী ফাজিল (স্নাতক) মাদরাসায় অধ্যক্ষের চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক জটিলতা ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী হাওলাদারের চাকরির বয়সসীমা গত ২৯ জুন শেষ হয়। তবে বুধবার (১ জুলাই) তিনি অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদরাসায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় মাদরাসার উপাধ্যক্ষ গাজী মো. শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও পেশিশক্তি প্রয়োগের অভিযোগ এনে তার অবস্থানের প্রতিবাদ জানান। প্রাণনাশের আশঙ্কা উল্লেখ করে উপাধ্যক্ষ বুধবার মোরেলগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন।

উপাধ্যক্ষ গাজী মো. শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও আব্দুল বারী বহিরাগতদের নিয়ে এসে জোরপূর্বক হাজিরা খাতা নিজের দখলে নিয়ে স্বাক্ষর করেছেন এবং খাতাটি আটকে রেখেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীরা এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড মেনে নেবেন না।

অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী হাওলাদার বলেন, তার চাকরির মেয়াদ শেষ হয়েছে—এটি সত্য। তবে পরিচালনা কমিটি তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। তাই তিনি বিনা বেতনে আরও দুই বছর দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি দাবি করেন, কোনো ধরনের পেশিশক্তি বা অনৈতিক কাজ তিনি করেননি।

এ বিষয়ে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনুপ দাস বলেন, বর্তমানে আব্দুল বারীর অধ্যক্ষ হিসেবে কোনো বৈধতা নেই। হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষরেরও কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তিনি জানান, কমিটি যদি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়, তবে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পরই কার্যকর হবে।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, মাদরাসার সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক। প্রচলিত বিধি অনুযায়ী উপাধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিস্থিতির ওপর প্রশাসনের নজর রয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত গুলিশাখালী ফাজিল (স্নাতক) মাদরাসায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।