দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

স্ত্রী-সন্তানের ওপর অভিমান করে ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যার ঘোষণা

28

মোংলা প্রতিনিধি:

স্ত্রী ও দুই সন্তান বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যার ঘোষণা দেন মোংলার এক সাব-ঠিকাদার। খবর পেয়ে দ্রুত তার বাড়িতে ছুটে যায় পুলিশ। পরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি বরিশালে থাকা তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন পুলিশের এক কর্মকর্তা। পুলিশের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং সন্তানদের নিয়ে স্বামীর কাছে ফিরতে মোংলার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ওই নারী।

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মোংলা শহরতলীর সিগনাল টাওয়ার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আত্মহত্যার ঘোষণা দেওয়া সবুজ ব্যাপারীর বয়স ৩৯ বছর। তিনি পেশায় সাব-ঠিকাদার এবং মোংলা ইপিজেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঠিকাদারি কাজ করেন।

স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছুদিন ধরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে সবুজের সঙ্গে তার স্ত্রীর বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ দিন আগে দুই সন্তানকে নিয়ে বরিশালে বাবার বাড়িতে চলে যান তার স্ত্রী। স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ করে দেন তিনি। সবুজের দাবি, তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরসহ যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমও ব্লক করে দেওয়া হয়।

সবুজ জানান, ঠিকাদারি কাজের একটি বিল বাবদ পাওয়া ১০ লাখ টাকা তিনি স্ত্রীর কাছে রেখেছিলেন। স্ত্রী বাবার বাড়িতে যাওয়ার সময় ওই টাকাও সঙ্গে নিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি। স্ত্রী-সন্তানদের হঠাৎ চলে যাওয়া এবং যোগাযোগ করতে না পারায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েন।

শুক্রবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার কথা জানান সবুজ। বিষয়টি জানতে পেরে স্বজন ও স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমানের নির্দেশে এসআই মোর্শেদ দ্রুত সবুজের অবস্থানস্থলে পৌঁছান। সেখানে দীর্ঘ সময় তার সঙ্গে কথা বলেন এবং পারিবারিক সমস্যার বিষয়গুলো শোনেন। পুলিশের অনুরোধে একপর্যায়ে তিনি শান্ত হন এবং আত্মহানির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বরিশালে থাকা সবুজের স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন এসআই মোর্শেদ। তিনি সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পারিবারিক বিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। পুলিশের মধ্যস্থতায় স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে স্বামীর কাছে ফিরতে মোংলার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মোংলা থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান বলেন, “ফেসবুক লাইভে এক যুবক আত্মহানির ঘোষণা দেন। বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ পাঠিয়ে তাকে নিবৃত্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তার স্ত্রী ও সন্তানদেরও তার কাছে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয়রা পুলিশের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সংকটের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তা দেওয়ার এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়।