দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

মোরেলগঞ্জে অধ্যক্ষকে ঘিরে উত্তেজনা

30

মোরেলগঞ্জ :

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার গুলিশাখালী ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারীকে ঘিরে শিক্ষক-প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও চুক্তিভিত্তিকভাবে অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকার চেষ্টা, অনিয়ম, অর্থ আদায় এবং অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি মাদ্রাসার শিক্ষক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সভায় সহকারী অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক শেখ আব্দুল্লাহ মাসুদ, প্রভাষক হাসিবুর হাসান হৃদয়, নাহিদ হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আব্দুল কাইয়ুম, নাজমিন আক্তার ও এবতেদায়ী বিভাগের প্রধান মোস্তাফিজুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে পদোন্নতি, উচ্চতর স্কেল, যোগদানসহ নানা অজুহাতে একাধিক শিক্ষকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, সহকারী অধ্যাপক শেখ আব্দুল্লাহ মাসুদের কাছ থেকে দুই দফায় দুই লাখ টাকা, ২০২৫ সালে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া পাঁচ শিক্ষকের কাছ থেকে মোট ৯০ হাজার টাকা, এবতেদায়ী শিক্ষক নাজমিন আক্তারের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা, আইসিটি প্রভাষক নাহিদ হোসেনের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা, কৃষি শিক্ষক মমতাজ বেগমের কাছ থেকে ৮৫ হাজার টাকা, আরবি প্রভাষক মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং দাখিল কারিগরি শিক্ষক আব্দুল গফফার মৃধার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, অধ্যক্ষ দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাচারীভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন এবং সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ করে আসছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলেও মাদ্রাসায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই। ছাত্রীদের জন্য একটি ওয়াশরুম থাকলেও সেটি ব্যবহারের অনুপযোগী। শিক্ষক মিলনায়তনের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা।

শিক্ষকদের ভাষ্য, প্রায় ৪০ বছর অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর চলতি বছরের ২৯ জুন মাওলানা আব্দুল বারীর চাকরির মেয়াদ শেষ হয়। এরপরও তিনি বহিরাগতদের সহযোগিতায় চুক্তিভিত্তিকভাবে একই পদে বহাল থাকার চেষ্টা করছেন। তাঁরা বিষয়টি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তবে অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর চাকরির মেয়াদ ২৯ জুন শেষ হয়েছে। তবে কোনো বেতন-ভাতা ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে চুক্তিভিত্তিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থ নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুল্লাহ বলেন, মাদ্রাসার সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর নির্দেশনায় বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধান ওই পদে বহাল থাকতে পারেন না। নিয়মবহির্ভূতভাবে দায়িত্ব পালন বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদ্রাসার সভাপতি ও বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অনুপ দাস বলেন, অধ্যক্ষের চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ওই পদে থাকার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। তিনি অনুমোদনের জন্য একটি রেজুলেশন পাঠিয়েছিলেন, তবে নিয়ম অনুযায়ী সভা ছাড়া তা অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয় বলে ফেরত দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে গত ১ জুলাই ২০২৬ সহকারী অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম মোরেলগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৩৫) করেন।