দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা

22

সাতক্ষীরা :

টানা দুই সপ্তাহের ভারী বর্ষণে সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ডুবে গেছে হাজারো বাড়িঘর, ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং বাড়ছে পানিবাহিত ও চর্মরোগের প্রকোপ।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই থেকে ১৮ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত জেলায় মোট ৪৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জুলাই সর্বোচ্চ ২২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।

জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পৌরসভার কামালনগর, ইটাগাছা, মধুমল্লারডাঙ্গী, বদ্দীপুর কলোনি, মধ্যকাটিয়া, রইচপুর, রাজারবাগান ও পুরাতন সাতক্ষীরাসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। অনেক স্থানে কোমরসমান পানি জমে থাকায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

পানিবন্দি মানুষ জানান, ঘরে রান্না-বান্না করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় বিভিন্ন এলাকায় চর্মরোগসহ পানিবাহিত রোগের প্রকোপও বেড়েছে।

বদ্দীপুর কলোনির বাসিন্দা ছলেমা খাতুন বলেন, বছরের পর বছর বৃষ্টি হলেই তাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে এবং সন্তানদের শিক্ষা কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

রইচপুর এলাকার আবু জাফর বলেন, নিচু এলাকায় অসংখ্য মাছের ঘের থাকায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে।

নাগরিক অধিকার উন্নয়ন কমিটির সহ-সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা বলেন, শহরের অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ, খাল দখল এবং শহরতলীতে যত্রতত্র মাছের ঘের তৈরি জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন, নেট-পাটা অপসারণ এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান তিনি।

এদিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন স্থানে খাল খনন, ড্রেন সংস্কার ও স্লুইস গেট সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বদ্দীপুর ও কামালনগর এলাকার পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জলাবদ্ধতার কারণে জেলার ৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আশাশুনি উপজেলায় ২০টি, কলারোয়ায় ১০টি, শ্যামনগরে ১২টি, সদর উপজেলায় ২০টি এবং তালায় একটি বিদ্যালয় রয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

অন্যদিকে জেলা মৎস্য অফিস জানিয়েছে, অতিবৃষ্টিতে জেলার দুই শতাধিক মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, জলাবদ্ধতায় জেলার প্রায় ৬ হাজার হেক্টর আউশ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে পচে যাওয়ায় কৃষকদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

জলাবদ্ধতা থেকে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের জন্য খাল পুনঃখনন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অবৈধ দখল ও পানি প্রবাহে বাধা অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।