দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

পাঁচ মিনিটের মহাকাব্যে মেসি

24

আরও ছোট হয়ে এসেছে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। শেষ হয়েছে রাউন্ড অব সিক্সটিন, আর গত ২৬ দিনের সবচেয়ে জাদুকরী মুহূর্ত হিসেবে উঠে এসেছে লিওনেল মেসির ৫ মিনিটের কাব্যগাথা— অবিশ্বাস্য গোল ও অ্যাসিস্ট—যা আর্জেন্টিনার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে দিয়েছে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে।

পাঁচ মিনিটের ইতিহাস

মাত্র ৫ মিনিটের জাদুতে মেসি দেখালেন কেন তিনি সর্বকালের সেরা। ২৫৯ সেকেন্ডে রচনা করলেন তিন অধ্যায়ের এক মহাকাব্য। একদিকে আর্জেন্টিনা যখন ২-০ গোলে পিছিয়ে বিদায়ের মুখে, অন্যদিকে মিশর ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু মেসি ঠিক করলেন—এটা হতে দেবেন না।

অধ্যায় ১: ৭৯তম মিনিটের সেই ক্রস

ম্যাচে এর আগে মেসি ছিলেন ব্যর্থ—একটি পেনাল্টি মিস, কয়েকটি ভুল পাস, থেমে যাওয়া ড্রিবল। শট পোস্টে লেগে ব্যর্থ হওয়া। কিন্তু ৭৯তম মিনিটে কর্নার থেকে ফিরতি বলে তিনি এক ঝলকে বদলে দিলেন সবকিছু। নিখুঁত ক্রসে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে খুঁজে পেলেন, আর তার হেডে গোল: আর্জেন্টিনা ১, মিশর ২।

অধ্যায় ২: ৮২তম মিনিটের ক্ষীপ্রতা

টাচলাইনে বল পেয়ে হঠাৎ যেন সময়কে পিছিয়ে দিলেন ৩৯ বছর বয়সী ‘বুড়ো’। পুরনো দিনের মতো গতি, শরীরী শক্তি, ড্রিবলিং—সব ফিরে এল। একে একে মিশরের ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে এগিয়ে গেলেন, প্রায় অসম্ভব জায়গা থেকে লাউতারো মার্তিনেজকে হেডে সুযোগ করে দিলেন। গোল হয়নি, কিন্তু বার্তা পৌঁছে গেছে—মেসি এখন পুরোপুরি জেগে উঠেছেন।

অধ্যায় ৩: ৮৩তম মিনিটে মেসির গোল

মন্টিয়েলের পাস থেকে বল পেয়ে তিন লাল জার্সির সামনে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন মুহূর্তেই। বাঁ পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে নেওয়া ভয়ঙ্কর জোরাল এক শটে বল ক্রসবারে লেগে জালে ঢুকে গেল। গোলকিপার শৌবিরের হাত ছুঁয়ে বল যেন তাকে ভেদ করেই ঢুকে পড়ল। আর্জেন্টিনা ২, মিশর ২।

মেসির জাদুতে বাঁচল আর্জেন্টিনা

একটি ক্রস, একটি ক্ষীপ্রতা আর একটি গোল—মাত্র পাঁচ মিনিটে মেসি বদলে দিলেন ম্যাচের চিত্র। শেষ পর্যন্ত এনজো ফার্নান্দেজ জয়সূচক গোল করলেও ম্যাচের আসল নায়ক ছিলেন মেসি। তার এই ক্ষণিকের বিস্ফোরণই আর্জেন্টিনাকে বিদায়ের হাত থেকে টেনে বের করেছে।

মিশরের স্বপ্ন ভেঙে গেল, কিন্তু বিশ্বকাপ পেল আরেকটি কিংবদন্তি মুহূর্ত। লিওনেল আন্দ্রেস মেসি আবারও প্রমাণ করলেন—কেন তিনি পৃথিবীর সেরা ফুটবলার।