দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

“২০ পরিবারের স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ, পলাতক দম্পতি”

13
মাগুরা :

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কাদিরপাড়া ইউনিয়নের ঘাসিয়াড়া গ্রামে অন্তত ২০টি পরিবারের কাছ থেকে কয়েক ভরি স্বর্ণালংকার ও প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের স্বরজিৎ রায় ও তার স্ত্রী শিমু রায়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর প্রায় তিন মাস ধরে তারা এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা ও স্বর্ণ ফেরত পেতে তারা বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। নাকোল পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঋণের চাপে কয়েকজন ভুক্তভোগী আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অজুহাতে স্বরজিৎ ও শিমু দম্পতি গ্রামের অসচ্ছল ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছ থেকে টাকা ও স্বর্ণ ধার নেন। পরে তা আর ফেরত না দিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যান।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে আকিদুল ইসলামের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা, স্বর্ণালী সেনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ২ লাখ টাকা, প্রমিলা রায়ের স্বর্ণালংকার ও ২ লাখ টাকা, শেফালী সেনের স্বর্ণালংকার ও ১ লাখ টাকা, দিপালী বিশ্বাসের ২ লাখ টাকা, ঝর্ণা বিশ্বাসের ৫০ হাজার টাকা, শিপ্রা সেনের স্বর্ণালংকার ও ২ লাখ টাকা, পুষ্পা বিশ্বাসের ১০ হাজার টাকা এবং মিতা রাণীর দেড় ভরি স্বর্ণসহ অন্তত ২০টি পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া, ওই দম্পতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করারও অভিযোগ উঠেছে। অনেক গ্রামবাসীর নামে ঋণ তুলে কিস্তি পরিশোধের আশ্বাস দিলেও পরে তারা আর যোগাযোগ করেননি। এতে ঋণের বোঝা এখন ভুক্তভোগীদের ওপর পড়েছে।

ভুক্তভোগী আকিদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন অজুহাতে স্বরজিৎ তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। এখন তিনি পলাতক। একইভাবে গ্রামের আরও অনেক পরিবার প্রতারণার শিকার হয়েছে।

দিপালী বিশ্বাস বলেন, তার নামে এনজিও থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ তুলে নিয়েছিল ওই দম্পতি। এখন ঋণের কিস্তি তাকে পরিশোধ করতে হচ্ছে।

স্বর্ণালী সেন বলেন, পুরো গ্রামের অন্তত ২০টি পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। তারা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও টাকা-স্বর্ণ ফেরতের দাবি জানান।

বন্ধু সামাজিক ও ঋণদান সমবায় সমিতির ফিল্ড অফিসার ও উপজেলা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন জানান, স্বরজিৎ ও তার স্ত্রী তাদের সমিতি থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কয়েকটি কিস্তি পরিশোধের পর পলাতক হন।

গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)-এর ফিল্ড অফিসার নাঈম শেখ বলেন, ওই দম্পতি তাদের প্রতিষ্ঠান থেকেও এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। পাশাপাশি গ্রামের আরও কয়েকজনের নামে ঋণ উত্তোলন করিয়েছেন। এখন কিস্তির টাকা আদায় করতে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে এনজিও কর্মীদেরও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে।

নাকোল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল মালেক বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অভিযুক্তরা এলাকায় না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।