দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

পাইকগাছায় নির্বাচন ঘিরে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বেকায়দায় জামায়াত

19

খুলনার পাইকগাছায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে রাড়ুলী ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। দলীয়ভাবে একাধিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পরও পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হিসেবে পরিচিত পাইকগাছা উপজেলায় এবার প্রথমবারের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে জামায়াত। গত মে মাসের শুরুতে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হয়।

রাড়ুলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে জেলা জামায়াতের ইউনিট সদস্য ও সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মোমিন সানার নাম ঘোষণা করা হলে মনোনয়ন প্রত্যাশী আরেক নেতা, রোকন সদস্য ও যুব বিভাগের দায়িত্বশীল এস কে মহিবুল্লাহ প্রার্থিতা প্রচারণা অব্যাহত রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দায়িত্বশীল নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ও সাংগঠনিক নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগে গত ২৭ মে জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ইমরান হুসাইন তাকে রোকন পদসহ সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।

এর মধ্যেই গত ১২ জুন রাড়ুলী আরকেবিকে হরিশ্চন্দ্র ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সাংগঠনিক সভায় নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং জেলা আমীর মাওলানা ইমরান হুসাইন উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, জেলা আমীরের বক্তব্য শেষে সংসদ সদস্যের বক্তব্য শুরু হওয়ার আগে কিছু ব্যক্তি হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, সাংগঠনিক বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে দলটির অভ্যন্তরে প্রতিযোগিতা ও মতবিরোধও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। তবে অনেকে এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

হট্টগোলের ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্নমত রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সভায় বহিরাগত কিছু লোকের উপস্থিতি ছিল। আবার কেউ কেউ নির্দিষ্ট কয়েকজন নেতাকর্মী ও তাদের অনুসারীদের দায়ী করছেন। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা সাঈদুর রহমান বলেন, “দলীয় প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে কারও মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা ক্ষোভ থাকলে তা নিরসনের জন্য জেলা আমীর বিষয়টি পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। এরপরও সভায় যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে, তার সঙ্গে বহিরাগত কেউ জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিক সম্প্রসারণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা এখন জামায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, দলটির জন্য এই চ্যালেঞ্জ আরও বাড়তে পারে।