দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

নেটজ বাংলাদেশ ও বিএমজেড-এর সহযোগিতায় কেশবপুরে সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত

21
যশোর:

যশোরের কেশবপুরে নারী ও কিশোরীদের মানবাধিকার সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন বন্ধ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ের এক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেটজ বাংলাদেশ ও বিএমজেড-এর সহযোগিতায় এবং রিইব-এর আয়োজনে ‘হোপ’ (HOPE) প্রকল্পের আওতায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কেশবপুর নিউজ ক্লাবের হলরুমে এ সংলাপ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (সিএসও) কমিটির সদস্য, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, নারী নেত্রী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। তারা স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যমান বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, মানবাধিকার পরিস্থিতি, নারী ও শিশু নির্যাতন, বাল্যবিবাহ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা নিয়ে আলোচনা করেন এবং এসব সমস্যার কার্যকর সমাধানে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

সংলাপ সভায় বক্তারা বলেন, সমাজে এখনও বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন, বৈষম্য এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বিদ্যমান। এসব সমস্যা মোকাবিলায় শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; বরং পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সিএসও কমিটির সভাপতি ও কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “নেটজ বাংলাদেশ ও বিএমজেড-এর সহযোগিতায় পরিচালিত ‘হোপ’ প্রকল্প প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারী ও কিশোরীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন, বাল্যবিবাহ ও সহিংসতা প্রতিরোধে সমাজের সকল স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রুপালি রানী দাস বলেন, “নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না। নারী ও কিশোরীদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হলে পরিবার ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ‘হোপ’ প্রকল্পের মতো উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারীদের সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।”

সভায় আরও বক্তব্য দেন সিএসও কমিটির সহ-সভাপতি প্রদীপ কুমার মোদক মানিক। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার ও সামাজিক অংশগ্রহণ জোরদারে ‘হোপ’ প্রকল্প কার্যকর ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের ক্ষমতায়ন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রকল্পটির কার্যক্রম ইতোমধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিএসও কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহনাজ পারভিন, সদস্য মাসউদ হাসান, আব্দুল জলিল, মিজানুর রহমান, আব্দুর রহমান রকি, সিরাজুল ইসলাম, শিখা পারভীন, রিইব কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার মন্ডলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোখলেসুর রহমান পিন্টু। সংলাপ শেষে অংশগ্রহণকারীরা নারী ও কিশোরীদের অধিকার সুরক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত পরিসরে চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং নারী ও কিশোরীদের ক্ষমতায়নে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সংলাপ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ গঠনে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।