খুলনা :
খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানাধীন ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির উদ্যোগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৫টায় খালিশপুর থানাধীন চরেরহাট খালিশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে এ সভার আয়োজন করা হয়।
ম্যানগ্রোভ ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যক্ষ সোহেল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জাকিয়া সুলতানা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করেই কমিউনিটি পুলিশিং পরিচালিত হচ্ছে। অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, তথ্য আদান-প্রদান এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, একা পুলিশের পক্ষে শতভাগ আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সাধারণ মানুষের সহযোগিতা। সমাজে কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই যদি স্থানীয় মানুষ পুলিশকে তথ্য প্রদান করেন, তাহলে অনেক বড় ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব। জনগণই পুলিশের চোখ ও কান। তাই এলাকায় কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যকলাপ দেখা গেলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
জাকিয়া সুলতানা বলেন, যুবসমাজকে মাদক, কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষা করতে পরিবার ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো তরুণ বিপথগামী হচ্ছে বলে মনে হলে পুলিশকে জানাতে হবে। পুলিশ আইন প্রয়োগের পাশাপাশি তাদের সংশোধনেরও চেষ্টা করবে। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন, তথ্যদাতার পরিচয় সর্বোচ্চ গোপন রাখা হবে এবং জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করতে কেএমপি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেএমপির খালিশপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) গোপী কিশোর রায়, খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. ইউসুফ আলী, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শেখ শাহিনুল ইসলাম পাখি, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম, শ্রমিক দল নেতা মো. নিজাম উর রহমান লালু, বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল বিশ্বাস এবং শ্রমিক নেতা মো. আফজাল হোসেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আবুল ফারহা হ্যাপি, মো. আবু বকর মোল্লা, সাইদুর রহমান জুয়েল, মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, আব্দুস সাত্তার, তসলিম উদ্দিন মিয়া, রাজিবুল ইসলাম, জাহিদ হোসেন, নাসির উদ্দিন শিমুল, জাহাঙ্গীর আলম, মিহির পান্ডে, দীপক কুমার দত্ত, শেখ মনির হোসেন, নুরুন্নবী, মো. আসাদ, বাবুল বয়াতি, শহিদুল ইসলাম, মো. জামাল হোসেন, শঙ্কর দাসসহ কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।