কয়রা :
খুলনার কয়রায় কপোতাক্ষ নদের চর দখল করে বালু ব্যবসার চাতাল তৈরীর অভিযোগ পাওয়া গেছে গোলাম রব্বানী নামে বহিষ্কৃত এক এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে। গত শনিবার রাতের আঁধারে উপজেলার মেঘারাইট গ্রামের পাশর্^বর্তি কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তি বাঁধের ঢালে গর্ত খুড়ে সেখানে বালু ব্যবসার চাতাল তৈরী করেছে কথিত ওই নেতা। এতে সদ্য নির্মিত বাঁধের ঢাল ধসে গেছে।
এনসিপির ব্যানারে ইফতার মহাফিলের আয়োজন করে চাঁদাবাজির অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল গোলাম রব্বানীকে বহিষ্কার করা হয়। তবে বহিষ্কারের পরও এনসিপির পরিচয়ে এলাকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন এই নেতা।
স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, শনিবার রাতে এক্সক্যাভেটর দিয়ে কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তি বাঁধের ঢালের মাটি কেটে সেখানে প্রায় একশ ফুট আয়তনের একটি গর্ত করা হয়। এতে সদ্য নির্মাণ করা বাঁধের ঢালের মাটি ধসে যায়। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মেঘারাইট গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল শেখ, ইমরান মিস্ত্রি, মাসুম মিস্ত্রিসহ অনেকেই জানিয়েছেন, কপোতাক্ষের তীরবর্তি ওই অংশের বাঁধ দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে সেখানে বাঁধ মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। সেই স্থানে এনসিপি নেতা বালুর ব্যবসার জন্য প্রথমে চর বনায়নের গাছ কেটে ফেলেছেন। পরে বাঁধের ঢালের মাটি কেটে গর্ত করা হয়েছে। এতে আরও ঝুঁকিতে পড়েছে ওই বাঁধ।
বাঁধের পাশর্^বর্তি ব্যবসায়ি আজিজুল শেখ বলেন, ঢাল ধসে পড়ায় স্থানীয় মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি দিয়ে গর্তটি ভরাট করে দিয়েছেন। গর্ত ভরাট করার খবর পেয়ে এনসিপি নেতা গোলাম রব্বানী লোকজন নিয়ে সেখানে এসে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে অশালিন আচারণ করেছেন।
জানতে চাইলে বহিষ্কৃত এনসিপি নেতা গোলাম রব্বানী বলেন, বাঁধের ওই জমির একজন রেকর্ডিও মালিক রয়েছেন। তার কাছ থেকে চুক্তিনামা করে সেখানে বালুর ব্যবসার জন্য চাতাল তৈরী করেছি। বাঁধের ক্ষতি করা আমার উদ্দেশ্য নয়।
পাউবোর সেকশান কর্মকর্তা (এসও) মো. সোলায়মান জানান, খবর পেয়ে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্থ স্থান পরিদর্শন করেছি। এ সময় যারা সেখানে গর্ত খুঁড়েছেন তাদেরকে ডেকে সতর্ক করে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। নদের চরে কারো রেকর্ডিও জমি আছে কিনা জানা নেই। তবে বাঁধের পাশর্^বর্তি জায়গায় কারো রেকর্ডিও জমি থাকার কথা নয়।
Prev Post