দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের গতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ইসরায়েল

18

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠনের গতি দেখে ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট-এর বরাত দিয়ে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, সংঘাতের মূল পর্ব শেষ হওয়ার পর ইরান দ্রুত তার সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে সক্ষম হওয়ায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বিস্মিত হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠনের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

জেরুজালেম পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরান তার আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে নতুন ও সৃজনশীল পদ্ধতি ব্যবহার করছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সময় ইরানের কাছে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর সময় সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০-তে পৌঁছেছিল।

ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য যাচাই করার দাবি করে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, দেশটি প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত গতিতে নতুন অস্ত্র উৎপাদন করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নেও একই ধরনের উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। মে মাসে সিএনএন-কে দেওয়া বক্তব্যে চার মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইরান সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে মার্কিন গোয়েন্দাদের পূর্বাভাস দেওয়া সময়সীমার চেয়েও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তখন ধারণা করা হয়েছিল, ইরান প্রায় ছয় মাসের মধ্যে ড্রোন হামলার সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারে।

এদিকে, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপাদান চীন থেকে ইরানে সরবরাহ অব্যাহত ছিল বলে সিএনএন-কে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দুই সূত্র। তবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ এ সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে দূরপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের মার্কিন মজুত কমে আসছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রয়টার্স-এর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রায় সব এটিএসিএমএস ও প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল ব্যবহার করে ফেলেছে। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রকে তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ মানবচালিত বোমারু বিমান ব্যবহারের ওপর বেশি নির্ভর করতে হতে পারে।

ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, ইরান কীভাবে তার সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে, তা তারা ঘনিষ্ঠভাবে ও ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের মূল্যায়নও নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। তবে পুনর্গঠনের গতি নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো মূল্যায়ন প্রকাশ করতে রাজি হয়নি আইডিএফ। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করলে গোয়েন্দা সূত্র ও পদ্ধতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।