দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

হাতের নাগালে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালতকে কাজে লাগানোর আহ্বান ইউএনও রেকসোনা খাতুনের

23

যশোর :

গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও স্বল্প খরচে ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) যশোরের কেশবপুর উপজেলার বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়ন পরিষদে আয়োজিত গ্রাম আদালত বিষয়ক বার্ষিক জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, র‌্যালি, আলোচনা সভা, ভিডিও প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর শংকর কুমার দাস।

আলোচনা সভায় ইউএনও রেকসোনা খাতুন বলেন, “গ্রাম আদালত হচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য বিচারব্যবস্থা। ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য জেলা আদালতে গিয়ে সময় ও অর্থ ব্যয় না করে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে দ্রুত ও কার্যকর সমাধান পাওয়া সম্ভব। তাই জনগণকে এ সেবা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনে গ্রাম আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে, বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ব্যবস্থার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৩০০ জন নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, সুবিধা ও সফলতা তুলে ধরে ভিডিও প্রদর্শনী এবং সচেতনতামূলক নাটক মঞ্চস্থ করা হয়।

পরে অনুষ্ঠিত কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি। পুরস্কারপ্রাপ্ত হাজিরা খাতুন বলেন, “গ্রাম আদালত সম্পর্কে আগে এত বিস্তারিত জানতাম না। আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক নতুন তথ্য জানতে পেরেছি, যা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য খুবই উপকারী।”

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা গ্রাম আদালত কো-অর্ডিনেটর শংকর কুমার দাস।

স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে জনগণকে আরও উৎসাহিত করবে।