মোংলা :
সুন্দরবনে দস্যুতা দমন, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক মোঃ জিয়াউল হক।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
মহাপরিচালক বলেন, দেশের সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্যোগকালীন উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
তিনি জানান, সুন্দরবন অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও বনদস্যুতা সম্পূর্ণরূপে দমনের লক্ষ্যে সরকারের নির্দেশনায় কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানের ফলে বনদস্যু চক্রগুলো ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন ও তার সহযোগীরা সম্প্রতি আত্মসমর্পণ করেছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যুদের অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হাড়বাড়ীয়া স্থাপনের ফলে বনদস্যুদের রসদ, অস্ত্র ও লজিস্টিক সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং সুন্দরবনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে।
সম্প্রতি জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হাড়বাড়ীয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক, নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক ঘটনা। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত একটি বাহিনীর স্থাপনায় হামলা শুধু সরকারি সম্পদের ক্ষতিই নয়, বরং সুন্দরবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অপরাধ দমন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা।
তিনি জানান, ঘটনার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপকূলীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রিয়ার অ্যাডমিরাল জিয়াউল হক বলেন, কোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রভাবে না পড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি সুন্দরবনের নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপদ জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে অপরাধ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ জানিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, দেশের জনগণের নিরাপত্তা, জাতীয় স্বার্থ এবং উপকূলীয় ও সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সবসময় অঙ্গীকারবদ্ধ এবং ভবিষ্যতেও এ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাবে।