এমনিতে প্রস্তুতি ম্যাচে অনেক কিছুই হয়ে থাকে, যেগুলো খুব গুরুত্ব না দিলেও চলে। তবে এবার যা হলো, সেটিকে আমলে নেয়ার উপায় কই? ডারউইনে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে গেছে ¯্রফে ৫৪ রানেই। তিন দিনের ম্যাচে সাধারণত জয়-পরাজয় বের হয় কমই। কিন্তু ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ম্যাচটিতে নাজমুল হোসেন শান্তর দল হেরে গেছে ইনিংস ও ৩৮ রানে! তৃতীয় দিনে প্রথম সেশন শেষ হওয়ার আগেই খেলা শেষ! প্রস্তুতি ম্যাচ হওয়ায় ৮ জন স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। তার পরও এভাবে বিধ্বস্ত হলো ব্যাটিং লাইন আপ। বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসিয়ে দেওয়ার অস্ট্রেলিয়ান নায়ক ক্যাম্পবেল থমসন। আগের দিন শেষ বিকেলে ২টি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। বাঁহাতি এই পেসারের শিকার শেষ পর্যন্ত ২৫ রানে ৮ উইকেট! অথচ ২২ বছর বয়সী এই পেসার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন ¯্রফে একটি। এই ম্যাচটি খেললেন তিনি হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে সাড়ে পাঁচ মাস পর ফিরে। তাতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে শঙ্কার কারণ আরও বাড়ল।
আগের দিন বাংরাদেশের পতিত হওয়া দুটি উইকেটই নিয়েছিলেন থম্পসন। গতকাল সকালে ফিরে যেন আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার। মাত্র ২৫ রান খরচায় তুলে নেন আরও ছয় উইকেট। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটাররা একের পর এক আত্মসমর্পণ করেন। নিজের বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে থম্পসন বলেন, ‘সকালে ইনিংসটা দ্রুত শেষ করার জন্য আমার পরিকল্পনা ছিল পরিষ্কার- নতুন বল কাজে লাগানো, বল সুইং করানো এবং স্টাম্পে আঘাত করা। ভাগ্য ভালো ছিল, কয়েকটি উইকেটও পেয়ে গেছি।’
মাত্র একটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন থম্পসন। তবু পুরো ইনিংসজুড়ে সঠিক জায়গায় বল ফেলেছেন তিনি। তার ধারাবাহিক লাইন-লেন্থের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটাররা বারবার ভুল করেছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে তানজিদ হাসানের ২২ রানই ছিল একমাত্র দুই অঙ্কের ইনিংস। আর কোনো ব্যাটার ১০ রানও করতে পারেননি। ফলে প্রথম ইনিংসে ২৬৩ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। নিজেকে মূলত নতুন বলের বোলার হিসেবে দেখেন থম্পসন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আমি নতুন বলের বোলার। তাই বল সুইং করানো এবং স্টাম্পে আঘাত করার চেষ্টা করি। এবার ভাগ্যও আমার পক্ষে ছিল।’
প্রস্তুতি ম্যাচের এমন ফল টেস্ট সিরিজের আগে বাংলাদেশের জন্য বড় সতর্কবার্তা। আগামী ১৩ আগস্ট এই ডারউইনেই শুরু হবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। সেখানে বাংলাদেশের সামনে থাকবেন প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউডের মতো বিশ্বমানের পেসাররা। প্রস্তুতি ম্যাচেই যেখানে এক তরুণ পেসারের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটিং এমন ভেঙে পড়েছে, সেখানে অস্ট্রেলিয়ার মূল পেস আক্রমণের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ যে আরও কঠিন হতে যাচ্ছে, তা বলাই যায়। ডারউইনে গিয়ে দলের প্রস্তুতি পর্বে তিন দিনের অনুশীলন সেশনে খুশিই ছিলেন বাংলাদেশ কোচ ফিল সিমন্স। কিন্তু প্রস্তুতি ম্যাচের পারফরম্যান্সে হতাশা লুকালেন না তিনি, ‘যে তিন দিন আমরা পেয়েছিলাম, বেশ ভালো কিছু কাজ হয়েছে আমাদের। প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাট হাতে আমরা নিজেদের হতাশ করেছি। যদি খেয়াল করে দেখেন যেভাবে আমরা আউট হয়েছি, ভালো কিছু ছিল না।’
ইনজুরি ও দল নির্বাচন নিয়ে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে হাতে এখন আর বেশি সময় নেই। প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যর্থতা দ্রুত কাটিয়ে উঠে টেস্টের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করাই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেটি নিতে পারবেন বলে শিষ্যদের ওপর আস্থা রাখছেন তিনি। সিমন্স বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, পরবর্তী তিন দিনে ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করবে এবং টেস্ট ম্যাচের জন্য নিজেদের কাক্সিক্ষত অবস্থায় নিয়ে যাবে। ম্যাচটি হতাশাজনক ছিল, তবে এখন আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং টেস্ট ম্যাচের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।’
ডারউইনে প্রথম টেস্ট শুরু আগামী বৃহস্পতিবার। মাঝের চারদিনে এই ক্ষত সারিয়ে টেস্টে লড়াইয়ের পথ খুঁজতে হবে বাংলাদেশকে। পুরো ফিট হয়ে ওঠার পথে থাকা লিটন কুমার দাসকে ফিরে পাওয়ার আকাক্সক্ষাও নিশ্চিতভাবে তীব্রতর করবে প্রস্তুতি ম্যাচের এই পারফরম্যান্স।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ : ২৬৩ ও ২য় ইনিংস : ২২ ওভারে ৫৪ (আগের দিন ১৯/২) (তানজিদ ২২, সাদমান ৬, মুমিনুল ৬ সৌম্য ৫, মুশফিক ২, অমিত ৪, শান্ত ০, মিরাজ ৬, হাসান ২*, তাসকিন ০, ইবাদত ০; থমসন ৮/২৫, জ্যাকবস ০/২২, রকিচ্চলি ২/৬)।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ ১ম ইনিংস : ৩৫৫
ফল : ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ ইনিংস ও ৩৮ রানে জয়ী।