শনিবার হংকংয়ে সমাপ্ত গ্লোবাল হেলথ সামিটে অংশগ্রহনকারীরা মন্তব্য করেছেন, চীনের দ্রুত বিকাশমান জৈবপ্রযুক্তি, তথা বায়োটেক গবেষণা ও উৎপাদন খাতে বৈশ্বিক ওষুধ শিল্পের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ বাড়ছে। খাতটির মূল্যায়ন বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনাই তাদের এই আগ্রহের প্রধান কারণ।
শুক্রবার একটি আলোচনায়, স্বাস্থ্যসেবা গ্রুপ সিটিক সিকিউরিটিজের প্রধান শু চেনমিং বলেন, ‘বহুজাতিক ওষুধ উৎপাদকগণ চীনে তাদের ব্যবসায়িক কৌশল পরিবর্তন করছে এবং সম্পদনির্ভর কার্যক্রম থেকে সরে আসছে। তারা এখন শক্তিশালী উদ্ভাবনী সক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগের পাশাপাশি চীনা অংশীদারদের সঙ্গে আরও গভীরভাবে একীভূত হওয়ার দিকে এগোচ্ছে।’
বুধবার অ্যাস্ট্রাজেনেকা ঘোষণা করে, তারা চীনের উদ্ভাবনী ওষুধ প্রস্তুতকারক সিএসপিসি ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রুপের সঙ্গে একটি যৌথ উদ্যোগ গঠন করেছে। এর আওতায় দেশটির হেবেই প্রদেশের রাজধানী শিজিয়াজুয়াংয়ে একটি ওষুধ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে, এই যৌথ উদ্যোগটি বিশ্ব বাজারের জন্য পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের উপর মনোযোগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এর পণ্যের পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মে মাসে সুইডেনের ক্ষত পরিচর্যা ও অস্ত্রোপচার পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মোলনলিকে ঝেজিয়াংভিত্তিক চিকিৎসা ও সুরক্ষা পণ্য সরবরাহকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠান ঝেন্দে মেডিকেলের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গঠন করে। হুয়াতাই ইউনাইটেড সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান জিয়াং ইউ বলেন, ‘ওষুধ খাতে চুক্তি ও লেনদেনের ক্ষেত্রে চীন বৈশ্বিক উদ্ভাবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে।’
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে উদ্ভাবনী ওষুধের জন্য আন্ত:সীমান্ত চুক্তি রেকর্ড ১১ হাজার কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের মোট চুক্তির প্রায় ৮০ শতাংশের সমান। ডেলয়েটের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে হংকংয়ের স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ খাতের ১১টি প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক আইপিওর মাধ্যমে মোট ১৪ দশমিক ১ বিলিয়ন হংকং ডলার বা ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে। মুনাফা অর্জনের পূর্ববর্তী বায়োটেক তালিকাভুক্তির সংখ্যা এক বছর আগের ৬ টি থেকে বেড়ে বর্তমানে ৭ টিতে দাঁড়িয়েছে।