দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

পাবনায় কলির মরদেহ উদ্ধারের স্থান ফের তল্লাশি, মেলেনি পায়ের অংশ

41

পাবনা :

পাবনায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০)-এর মরদেহ উদ্ধারের সাত দিন পর ঘটনাস্থলে ফের তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার দোগাছী কলুনিয়া এলাকায় মরদেহ উদ্ধারের স্থান ও আশপাশে এ তল্লাশি চালানো হয়।

জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিশুটির স্বজনদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে ডিবির ওসি আব্দুস সালাম ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বেনু রায়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে মরদেহ উদ্ধারের স্থান ও আশপাশের ডোবায় তল্লাশি চালানো হয়। স্থানীয় কয়েকজনকেও বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজিতে সম্পৃক্ত করা হয়।

তবে তল্লাশি চালিয়ে এখন পর্যন্ত শিশুটির পায়ের অংশ পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সোহেল বলেন, দাফনের সময় শিশুটির পায়ের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি এখনো পরিষ্কার হয়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বেনু রায় বলেন, স্থানীয়রা পায়ের অংশ খুঁজে দেখতে চেয়েছিলেন। সে কারণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

ডিবির ওসি আব্দুস সালাম বলেন, শিশুটির স্বজনদের পক্ষ থেকে পায়ের নিচের অংশ নিয়ে দাবি করা হয়েছিল। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাবনা পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানিয়েছিলেন, তদন্তে শিশুটিকে হত্যার পর মরদেহ গোপন করার তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছিলেন, শিশুটির মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়নি।

পুলিশ ও মামলার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় দোগাছী কলুনিয়া গ্রামের শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। মোস্তফা জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি; তবে ইয়াছিন আলী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।