দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

টানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা

26

যশোর:

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড, গুদাম (শেড) ও অভ্যন্তরীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোটি কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে বন্দরের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন পাঁচটি শেডে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় সেখানে সংরক্ষিত বিভিন্ন ধরনের পণ্য পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বন্দরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং পানি নিষ্কাশনের অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন শেড ও ইয়ার্ডে পানি জমে যায়। এবার টানা ভারী বর্ষণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরু ড্রেন, পলি ও ময়লা জমে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত অপসারণ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

বন্দরের বিভিন্ন শেডে রাখা কাপড়, খাদ্যপণ্য, কেমিক্যাল, শিল্পকারখানার কাঁচামালসহ বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত পণ্য পানিতে ভিজে ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। অনেক পণ্যের মোড়ক নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেগুলোর গুণগত মান নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এতে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বারবার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বছরই কোটি কোটি টাকার পণ্য ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়ে। তারা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরূপণ, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন।

জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিনিধি, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত শেডগুলো পরিদর্শন করেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করা হয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক কাজী রতন বলেন, “টানা ভারী বৃষ্টির কারণে বন্দরের কয়েকটি শেডে পানি প্রবেশ করেছে এবং কিছু আমদানিকৃত পণ্য ভিজেছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য পাওয়ার পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে অবিরাম বৃষ্টির কারণে কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি কমে গেলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে বলে আশা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “বন্দরে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে বন্দরের অভ্যন্তরে পণ্য ওঠানামা, সংরক্ষণ, লোড-আনলোড এবং পরিবহন কার্যক্রম ধীরগতির হয়ে পড়েছে। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা।

তাদের মতে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দরে আধুনিক, টেকসই ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে একইভাবে কোটি কোটি টাকার পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও জাতীয় অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়বে।