দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

পাইকগাছায় স্কুলের নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ

26

পাইকগাছা :

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী তুহিন ঢালীর বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, কর্মস্থলে অনিয়মিত উপস্থিতি এবং বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অধিকাংশ শিক্ষক।

জানা গেছে, ১৯৯২ সালে উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন ১১ জন শিক্ষক ও ৪ জন কর্মচারী। কর্মচারী সংকটের কারণে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অফিস সহায়কের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য এবং আয়া মৃত্যুবরণ করায় প্রতিষ্ঠানটি আরও সমস্যার মুখে পড়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, নৈশপ্রহরী তুহিন ঢালী নিয়মিত রাতে বিদ্যালয়ে অবস্থান করেন না। অধিকাংশ সময় সন্ধ্যায় বিদ্যালয়ের আলো জ্বালিয়ে চলে যান এবং পরে আর ফিরে আসেন না। প্রয়োজনের সময় মোবাইল ফোনেও তাকে পাওয়া যায় না। অফিস চলাকালীন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানালে তিনি অনীহা প্রকাশ করেন। এছাড়া বহিরাগতদের কাছে বিদ্যালয় সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবদাস মণ্ডল বলেন, বিদ্যালয়ের প্রয়োজনের স্বার্থে শিক্ষক-কর্মচারীদের অনেক সময় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। ২০২৩ সাল থেকে তুহিন ঢালী নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত থাকলেও শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি তার অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে একটি মহল নৈশপ্রহরীকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে নৈশপ্রহরী তুহিন ঢালী বলেন, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিদ্যালয়টি নির্জন এলাকায় হওয়ায় রাতে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি থাকলেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। অফিস চলাকালেও প্রয়োজনীয় কাজ করেন। তার কর্মঘণ্টা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে প্রচারণা চালানো হয়েছে, তার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, চাকরিবিধি অনুযায়ী শিক্ষক ও কর্মচারীরা নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে এ ধরনের মতপার্থক্য বা দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়। বিদ্যালয়ের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে সমন্বয় ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।