দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

জাহাজমারী খালপাড়ে কদবেল-জামের ১০০ চারা রোপণ

20

সাতক্ষীরা :

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং খালপাড়ে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জাহাজমারী খালপাড়ে ব্যতিক্রমী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় ৫০টি কদবেল ও ৫০টি জামের চারা রোপণ করা হয়। পাশাপাশি চারা সংরক্ষণ ও পরিচর্যার জন্য বিতরণ করা হয় ২০০টি বাঁশের চটা, ১৬০ কেজি জৈব সার এবং ব্লু নেট।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বেলা ১১টায় উপজেলার যুগীখালী ইউনিয়নের জাহাজমারী খালপাড়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। রাজকীয় নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের অর্থায়নে সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া এবং এর সহযোগী সংস্থা উত্তরণ জাহাজমারী খালের পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। খালের দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে স্থানীয়দের নিয়ে গঠন করা হয়েছে জাহাজমারী খাল ব্যবস্থাপনা কমিটি। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ওই কমিটির উদ্যোগেই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম। তিনি জাহাজমারী খাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের হাতে কদবেল ও জামের চারা তুলে দেন এবং নিজ হাতে একটি কদবেল গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, একটি খালের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে শুধু খনন করলেই হবে না, এর আশপাশের পরিবেশও সমানভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। দেশীয় ফলদ বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মাটির ক্ষয়রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব। তিনি রোপণ করা গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সুরক্ষায় খাল ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুগীখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মনোয়ারা খাতুনমো. বিল্লাল হোসেন, জাহাজমারী খাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, সহ-সভাপতি, সম্পাদক, ক্যাশিয়ার ও অন্যান্য সদস্যরা।

এছাড়া সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার প্রোগ্রাম অফিসার গোলাম মশিউর রহমান, উত্তরণের ওয়াটার ক্লাস্টার অফিসার মো. মাজহারুল ইসলাম, ওয়াটার ক্লাস্টার ফ্যাসিলিটেটরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, জাহাজমারী খাল পুনরুদ্ধারের পর এর পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা, খালপাড়ে সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদে খাল সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তাদের আশা, রোপণ করা কদবেল ও জামের গাছগুলো ভবিষ্যতে খালপাড়কে আরও সবুজ, পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু সহনশীল করে তুলবে এবং এলাকার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।