দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

গাইবান্ধা এলজিইডিতে একই পদে দুই নির্বাহী প্রকৌশলী

24

গাইবান্ধা :

গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ে একই পদে দুইজন নির্বাহী প্রকৌশলী দায়িত্ব দাবি করায় জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে একই কক্ষে বসে দুজনই অফিস করায় দাপ্তরিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে অস্বস্তি। এতে ঠিকাদার ও বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, মো. সাইফুল ইসলাম ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে গাইবান্ধা এলজিইডিতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে আব্দুল আজিজ নামে এক প্রকৌশলীকে গাইবান্ধা এলজিইডিতে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। একই আদেশে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামকে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বদলি আদেশের পর আব্দুল আজিজ গত ২১ জুলাই গাইবান্ধা এলজিইডি কার্যালয়ে যোগদান করেন। তবে এরপরও মো. সাইফুল ইসলাম দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় একই কার্যালয়ে দুজনই নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের দাবি করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সরেজমিনে গাইবান্ধা এলজিইডি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলীর নেমপ্লেটযুক্ত কক্ষে দুইজন কর্মকর্তা অফিস করছেন। এ পরিস্থিতিতে অনেক ঠিকাদার ও সেবাগ্রহীতার মধ্যে কে প্রকৃতপক্ষে নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে রয়েছেন, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বিল ও অন্যান্য দাপ্তরিক কাজ নিয়ে আগের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার কাছে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলজিইডির এক কর্মচারী বলেন, বদলি আদেশের পরও আগের নির্বাহী প্রকৌশলী দায়িত্বে থাকায় দপ্তরে এক ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষের।

একজন ঠিকাদার বলেন, একই পদে দুইজন দায়িত্ব দাবি করায় তারা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। বিল অনুমোদনসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক বিষয়ে কোন কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মোত্তাকিন বলেন, নতুন নির্বাহী প্রকৌশলীর বিষয়ে তিনি কোনো চিঠি পাননি। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ীই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের সাইট পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান তিনি।

বদলির আদেশ পাওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ জুলাই তার বদলির আদেশ হয়েছে এবং পরদিন তিনি ই-মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন। গাইবান্ধায় তার বেশ কিছু অসম্পূর্ণ কাজ রয়েছে। সেগুলো শেষ করে যথাযথভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার পরই তিনি কর্মস্থল ছাড়বেন বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, তার বদলি সাধারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সে বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তবে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের কথা জানান তিনি।

এদিকে একই পদে দুই কর্মকর্তার অবস্থান নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা দ্রুত নিরসন করে দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন ঠিকাদার ও সেবাগ্রহীতারা।