খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনে পরিচালিত ‘মর্ফো-মলিকিউলার এন্ড স্মার্ট টেকনোলজি-বেইজড ইনসেক্ট এন্ড ডিজিজ ডিটেকশন, দেয়ার বায়োলজিক্যাল ম্যানেজমেন্ট এন্ড ট্রান্সফরমেশন’ শীর্ষক হিট সাব-প্রকল্পের ইনসেপশন কর্মশালা আজ ২১ এপ্রিল (মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকাল এ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, কৃষিখাতে টেকসই উন্নয়নের জন্য গবেষণা ও প্রযুক্তির সমন্বয় অপরিহার্য। এ ধরনের প্রকল্প দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তুলবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও রোগ দ্রুত শনাক্ত করা গেলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবের শিকার হচ্ছি। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের বংশবিস্তার বাড়ছে, যা শীতপ্রধান দেশে তুলনামূলক কম দেখা যায়। এ সমস্যার ইন্ডিজেনাস সমাধান বের করতে হবে। তিনি গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ব্যবহারের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান। তিনি বলেন, দেশে গবেষণাক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সফলতা এসেছে কৃষি ও মৎস্যখাতে, যার ফলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে। উৎপাদনের পাশাপাশি রোগের প্রকোপও বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি হচ্ছে না। তাই আধুনিক কৃষি পদ্ধতির সঙ্গে অ্যাডাপ্ট হতে হবে এবং দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী বলেন, কৃষিক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন মূলত গবেষণার মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। কৃষিই আমাদের টিকিয়ে রেখেছে। অধিক উৎপাদনের আশায় কৃষকরা অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করছেন, যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই প্রকল্পটি কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি প্রকল্পের অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও আর্থিক নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর মোঃ রেজাউল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্যে সাব-প্রকল্পের পরিচিতি তুলে ধরেন এএসপিএম প্রফেসর ড. শিমুল দাস। টেকনিক্যাল সেশনে সাব-প্রকল্পের লক্ষ্য, পদ্ধতি, কার্যক্রম, আর্থিক পরিকল্পনা ও প্রত্যাশিত ফলাফল উপস্থাপন করেন এসপিএম ড. মোঃ মোস্তফা কামাল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আলোচনা পর্বে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্পের লক্ষ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভের পাশাপাশি বাস্তবায়ন কৌশল বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন।
হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন এন্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) এর সাব-প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ কর্মশালায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, কৃষক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।