দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

ইউএনও রেকসোনা খাতুনের আহ্বান: সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার

64

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি :ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যশোরের কেশবপুরে বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আঙিনা পরিষ্কার রাখি, সবাই মিলে সুস্থ থাকি প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত র‍্যালিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রেকসোনা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেশকাতুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেহনেওয়াজ এবং কেশবপুর থানার তদন্ত পরিদর্শক মো. শহিদুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আলহাজ আব্দুস ছামাদ বিশ্বাস, মো. আব্দুর রাজ্জাক, শেখ শহিদুল ইসলাম (শহিদ) এবং মো. হারুনার রশীদ বুলবুল, পৌর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমীর প্ভাষক মোঃ জাকির হোসেন সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও রেকসোনা খাতুন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এর জন্য সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। নিজেদের বাড়িঘর, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে এডিস মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। পরিচ্ছন্ন পরিবেশই একটি সুস্থ সমাজ গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত।তিনি সবাইকে নিয়মিত জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বিশেষ নির্দেশনা দেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেহনেওয়াজ বলেন, ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। অধিকাংশ রোগী সঠিক চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত বিশ্রামে সুস্থ হয়ে উঠলেও ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর ও ডেঙ্গু শক সিনড্রোম মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা। তিনি বাড়ির ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ড্রাম, বালতি, ডাবের খোসা এবং অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। এ সময় এডিস মশা স্বচ্ছ ও স্থির পানিতে ডিম পাড়ে। তাই বাড়ির ভেতরে ও আশপাশে কোথাও পানি জমতে না দেওয়া, অব্যবহৃত পাত্র ধ্বংস বা উল্টে রাখা, ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার এবং মশারি ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে জনসাধারণের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং নিজে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করার আহ্বান জানানো হয়।

তবে র‍্যালি ও আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গেলে হাসপাতালের পেছনের অংশে ব্যবহৃত ডায়াপার ও বিভিন্ন বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। এসব বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি সেখানে মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে উপস্থিতদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। এছাড়া হাসপাতালের কয়েকটি ড্রেনও অপরিষ্কার ও আবর্জনায় ভরাট অবস্থায় দেখা যায়।

স্থানীয়দের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
আয়োজকরা জানান, ডেঙ্গুমুক্ত কেশবপুর গড়ে তোলার লক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সবাইকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে এসে নিজে সচেতন হওয়া এবং অন্যদের সচেতন করার আহ্বান জানানো হয়।