দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬: পরিবেশ সুরক্ষায় পরিবারভিত্তিক উদ্যোগের আহ্বান ক্লাইমেট অ্যাকটিভিস্ট রেদওয়ানুল রুহানের

5

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ক্লাইমেট অ্যাকটিভিস্ট ও আপস যুব সংগঠন এর প্রতিষ্ঠাতা রেদওয়ানুল রুহান পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে পরিবারভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “পরিবেশ সুরক্ষায় আজকের উদ্যোগই আগামী প্রজন্মের নিরাপদ পৃথিবীর ভিত্তি। পরিবার থেকেই শুরু হোক এ যাত্রা।”

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে বৈশ্বিক বাস্তবতা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশও এর মারাত্মক প্রভাব অনুভব করছে। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পানির সংকটের মতো বহুমাত্রিক ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে।

রুহান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় জনপদ—খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলার মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি বহন করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী হওয়া সত্ত্বেও তারাই এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে প্রতিবছর হাজারো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে; হারাচ্ছে বসতভিটা, জীবিকা ও নিরাপত্তা।

তিনি বলেন, “উপকূলের মানুষ প্রতিনিয়ত জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তাই জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে তাদের অভিজ্ঞতা, প্রয়োজন ও কণ্ঠস্বরকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্ব দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উদ্যোগগুলোর অনেকগুলোই পরিবার থেকেই শুরু হতে পারে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বৃক্ষরোপণ, পানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ, বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের গুরুত্ব তুলে ধরে রুহান বলেন, “সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়; এটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সুরক্ষা বেষ্টনী।” তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাত কমানোর পাশাপাশি সুন্দরবন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কার্বন শোষণ এবং লাখো মানুষের জীবিকার উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই সুন্দরবনসহ দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।

তরুণদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুবসমাজকে নেতৃত্ব দিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং জলবায়ু অভিযোজনমূলক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, “উপকূলকে বাঁচানো মানেই বাংলাদেশকে বাঁচানো। পরিবেশ রক্ষা কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়; এটি প্রতিদিনের দায়িত্ব। আজ আমরা প্রকৃতির জন্য যা করব, আগামী প্রজন্ম তার সুফল ভোগ করবে।”

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে তিনি সকল নাগরিক, বিশেষ করে তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানান—পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তোলা, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ নির্মাণে সক্রিয় ভূমিকা পালনের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার।##