দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

কয়রায় মাছ ও ছাগল পালনে ঘুরেছে মনোয়ারার ভাগ্যের চাকা

30

 কয়রা :

একসময় সংসারের অভাব-অনটনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হতো খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের কাটমারচর গ্রামের মনোয়ারা খাতুনকে। সংসারের প্রয়োজন মেটাতে অন্যের ওপর নির্ভর করতে হতো তাকে। তবে নিজের কর্মদক্ষতা, পরিশ্রম ও আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে মাছ চাষই হয়ে ওঠে তার পরিবারের অন্যতম আয়ের উৎস। বর্তমানে মাছ চাষের পাশাপাশি ছাগল পালন ও বস্তায় আদা চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

মনোয়ারা খাতুন সুন্দরবনসংলগ্ন কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের কাটমারচর গ্রামের বাসিন্দা। স্বামীর অসুস্থতার পর কয়েক বছর আগে স্বল্প পরিসরে মাছ চাষ শুরু করেন তিনি। শুরুতে অভিজ্ঞতা ও নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও ইআরসিসি-২ প্রকল্পের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ধীরে ধীরে মাছ চাষের কৌশল রপ্ত করেন। বর্তমানে প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করছেন তিনি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কাটমারচর গ্রামে জেজেএস ইআরসিসি-২ প্রকল্পের আওতায় মনোয়ারার মাছ চাষসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক কার্যক্রমের প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তীলক কুমার ঘোষ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সমীর কুমার সরকার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কে এম মফিজুর রহমান, বিআরডিবির এআরডিও আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেজেএস ইআরসিসি-২ প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী নাসির উদ্দীন, ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর শরিফুর রহমান, মোছা. নুসরাত জাহান ও এলএসপি রাবেয়া খাতুনসহ সংশ্লিষ্টরা।

মনোয়ারা খাতুন বলেন, “শুরুতে মাছ চাষ সম্পর্কে আমার তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না। ইআরসিসি-২ প্রকল্পের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ধীরে ধীরে মাছ চাষের বিভিন্ন কৌশল শিখেছি। পাশাপাশি দুটি ছাগল দিয়ে পালন শুরু করি। এখন আমার খামারে আটটি ছাগল রয়েছে। মাছের খাবার দেওয়া, পুকুরের পানি ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণসহ নানা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেছি। এখন মাছ বিক্রি করে নিয়মিত আয় করতে পারছি। এতে সংসারে সহযোগিতা করার পাশাপাশি নিজেরও একটি পরিচয় তৈরি হয়েছে।”

শুধু মনোয়ারা নন, ইআরসিসি-২ প্রকল্পের আওতায় উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের প্রায় ৭০০ উপকারভোগী বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বড়বাড়ী গ্রামের প্রভা রাণী মণ্ডল, রাবেয়া খাতুনসহ অনেকে ধান-মাছ সমন্বিত চাষ, ছাগল পালন, বস্তায় আদা চাষসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন।

উপকারভোগীরা জানান, আগে সংসার চালাতে তাদের অনেক কষ্ট হতো। নিজেদের কিছু করার ইচ্ছা থেকেই অল্প জমিতে মাছ চাষসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক কাজ শুরু করেন তারা। শুরুতে নানা ভয় ও অনিশ্চয়তা থাকলেও পরিশ্রমের পাশাপাশি সঠিক পরামর্শ পাওয়ায় এখন মাছ ও অন্যান্য কৃষিকাজ থেকে আয় করতে পারছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, উপকূলীয় কয়রায় নারীরা ঘরের কাজের পাশাপাশি কৃষি, মাছ চাষ, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালনের মতো আয়বর্ধক কাজে যুক্ত হচ্ছেন। এতে পরিবারের আয় বাড়ার পাশাপাশি নারীদের আত্মনির্ভরশীলতাও তৈরি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তীলক কুমার ঘোষ বলেন, নারীদের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে পারলে পরিবারের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি তাদের আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায়। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শের মাধ্যমে এসব উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সমীর কুমার সরকার বলেন, মাছ চাষে সঠিক ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত পরিচর্যা করলে অল্প জায়গা থেকেও ভালো উৎপাদন পাওয়া সম্ভব। নারীদের মাছ চাষে উৎসাহিত করতে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।