দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

বেনাপোলে দুই মাসে সাড়ে ৩ লাখ কেজি ভারতীয় ইলিশ আমদানি

31

শার্শা :

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভারত থেকে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ মাছ আমদানি হয়েছে। জুলাই ও আগস্ট মাসে ২২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসব ইলিশ আমদানি করে। আমদানি করা ইলিশের ঘোষিত মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জুলাই মাসে ভারত থেকে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি এবং আগস্ট মাসে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন বলেন, বন্দর দিয়ে প্রায় ৩৫০ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সাদা মাছও আমদানি হচ্ছে। এসব পণ্য আমদানির মাধ্যমে সরকার রাজস্ব পাচ্ছে।

বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, ভারত থেকে নিয়মিত ইলিশ আমদানি হচ্ছে। মৎস্য অধিদপ্তরের অনুমতি সাপেক্ষে এসব ইলিশ আমদানি করা হয়। কাস্টমসের নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী অ্যাসেসমেন্ট শেষে নির্ধারিত রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে।

এদিকে ভারতীয় ইলিশ আমদানির কারণে দেশের বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, তুলনামূলক কম দামে ভারতীয় ইলিশ বাজারে আসায় দেশি ইলিশের চাহিদা কিছুটা কমেছে। বর্তমানে বাজারে ভারতীয় ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং দেশি ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

তবে কোথাও কোথাও ভারতীয় ইলিশ ‘মিয়ানমারের ইলিশ’ নামে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

ইলিশ কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, দেখতে প্রায় একই রকম হওয়ায় দেশি ও বিদেশি ইলিশের পার্থক্য সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বোঝা কঠিন। তার দাবি, ভারতীয় ইলিশ দেখতে আকর্ষণীয় হলেও স্বাদে দেশি ইলিশের মতো নয়।

এক বিক্রেতা বলেন, ভারত থেকে তুলনামূলক কম দামের ইলিশ আসায় দেশি ইলিশের চাহিদা কমেছে। এতে দেশি ইলিশ বিক্রেতারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তিনি ভারতীয় ইলিশ আমদানি বন্ধের দাবি জানান।

অন্যদিকে বৈধ আমদানির পাশাপাশি অবৈধভাবে ইলিশ দেশে আনার অভিযোগও রয়েছে। গত ২২ জুলাই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সাদা মাছের ঘোষণা দিয়ে আনা ১২ কার্টন বা প্রায় ৩৬০ কেজি ভারতীয় ইলিশ জব্দ করে বেনাপোল কাস্টমস।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ পথে ইলিশ আমদানির ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়লেও দেশি ও বিদেশি ইলিশের পরিচয় নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তাই বাজারে আমদানি করা ইলিশের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।