দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে টিপসই নেন জামায়াত নেতা পরে বিধবা জানলেন তার ‘বিয়ে হয়ে গেছে’

29

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে এক বিধবা নারীর কাছ থেকে টিপসই নেওয়ার পর তার নামে এফিডেভিট ও কাবিননামা তৈরির অভিযোগ ওঠেছে। ওই কাবিননামায় তার সঙ্গে এক প্রতিবেশীর বিয়ে হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মোছাম্মৎ আছিয়া বেগম (৪৩) উপজেলার ২ নম্বর পুটিজানা ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় এক যুগ আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর পাঁচ সন্তানকে নিয়ে তিনি স্বামীর বাড়িতেই বসবাস করছেন। সন্তানদের কথা বিবেচনা করে তিনি আর বিয়ে করেননি। কয়েক বছর আগে নিজেই তার ছেলের বিয়ে দিয়েছেন।

আছিয়া বেগমের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ভাষ্য, ছেলের বিয়েতে উকিল হিসেবে ছিলেন প্রতিবেশী আবদুল কদ্দুস (৬৪)। এরপর বিভিন্ন সময় তিনি আছিয়া বেগমের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে আবদুস সাত্তার নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে আছিয়া বেগম এতে রাজি হননি বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানান।

অভিযোগ রয়েছে, এরপর ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আবদুস সাত্তার ওই নারীর কাছ থেকে কৌশলে টিপসই নেন। প্রায় দেড় মাস আগে সাত্তার ফোন করে তাকে জানান, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কিছু কাগজে টিপসই দিতে হবে। নিরক্ষর আছিয়া বেগম তার কথামতো সাত্তারের দোকানে গিয়ে কয়েকটি কাগজে টিপসই দিয়ে আসেন।

সাত্তার ফুলবাড়ীয়া ২নং পুটিজানা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের জামায়াত ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক।

সম্প্রতি আছিয়া বেগম ও আবদুল কদ্দুসের বিয়ে হয়েছে- এমন কিছু কাগজপত্র প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে আছিয়া বেগম বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের কাছে প্রতিকার দাবি করেন।

প্রকাশিত একটি কাবিননামায় লেখা হয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর উভয়ের সম্মতিতে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের কথা উল্লেখ করে পৌরসভার নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. গোলাম মোস্তফার কার্যালয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে কাবিননামায় দাবি করা হয়েছে।

তবে কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম রয়েছে, তাদের কয়েকজন দাবি করেছেন; তারা এ ধরনের কোনো বিয়ে সম্পর্কে জানেন না। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে কাবিননামার সত্যতা নিয়েও।

নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, কাবিননামায় থাকা তার সিল ও স্বাক্ষর জাল করা হয়ে থাকতে পারে।

স্থানীয় মোশারফ, রফিকসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, টাকার বিনিময়ে আবদুস সাত্তার এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সাত্তার সেখানে উপস্থিত হননি বলে তারা জানান। তাদের দাবি, পাশের ইউনিয়নের আব্দুল হেকিম নামের আরও একজন ব্যক্তি এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযুক্ত আবদুল কদ্দুসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে আবদুস সাত্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কল করবেন বলে কলটি কেটে দেন। এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আছিয়া বেগম বলেন, ‘আমার বড় বড় সন্তান ও নাতনী রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে টিপসই নেওয়া হয়েছে। পরে আমার নামে বিয়ের কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এতে আমি সামাজিকভাবে বিব্রত ও সম্মানহানির শিকার হয়েছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তি চাই।’

ফুলবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ভুক্তভোগী নারীকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।