দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

জলবায়ু ও শিশু অধিকার নিয়ে গবেষণায় অনুদান পেলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ শিক্ষার্থী

7

 

জলবায়ু পরিবর্তন ও শিশু অধিকারবিষয়ক গবেষণায় অনুদান পেয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষার্থী। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সংস্থা টেরে ডেস হোমস্ (টিডিএইচ) বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া ‘স্টুডেন্ট রিসার্চ গ্র্যান্ট প্রোগ্রাম ২০২৬’-এর আওতায় তাঁদের নির্বাচিত করা হয়েছে।

কর্মসূচির অধীনে জমা পড়া ৩১টি গবেষণা প্রস্তাবের মধ্য থেকে সাতজন শিক্ষার্থীকে গবেষণা অনুদানের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন—অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের নাবিল আহমেদ চৌধুরী, সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের মো. হেলালুজ্জামান ও দৃষ্টি মজুমদার, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের অলব্রাইট বাড়ৈ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের খালিদ আহমেদ, স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের মো. হাসিবুল আলম সম্পদ এবং শিক্ষা ডিসিপ্লিনের মো. লিমন শেখ।

নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা জলবায়ু পরিবর্তন ও শিশু পুষ্টি, কিশোর-কিশোরীদের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি, শিশুকেন্দ্রিক আগাম দুর্যোগ সতর্কতা, লবণাক্ততা ও নারী-কিশোরীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি, দুর্যোগ মোকাবিলায় যুব স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শিশু ও তরুণদের পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি এবং খেলাধুলার মাধ্যমে কিশোরদের নেতৃত্ব ও সহনশীলতা বিকাশের মতো বিষয়ে গবেষণা করবেন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। টিডিএইচের সঙ্গে যৌথ এ উদ্যোগ তরুণ গবেষকদের উৎসাহিত করবে এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রভাবশালী গবেষণা তৈরিতে সহায়তা করবে। এসব গবেষণার ফলাফল মানুষের কল্যাণের পাশাপাশি নীতিনির্ধারণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষণার ফলাফলকে টেকসই ও প্রয়োগযোগ্য করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

টিডিএইচ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিনিয়া আফরোজ বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ পাওয়া আনন্দের। এ কর্মসূচি তরুণ গবেষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে এবং শিশু ও তরুণদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় গবেষণালব্ধ প্রমাণ তৈরিতে সহায়তা করবে।

স্বাগত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্য অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আশিক উর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমে সহায়তার লক্ষ্যে কোনো আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ধরনের যৌথ সহযোগিতা এটিই প্রথম। এসব গবেষণার ফলাফল আগামী ডিসেম্বর মাসে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও টিডিএইচ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত গবেষকেরা নিজ নিজ তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষকের পরামর্শে গবেষণা পরিচালনা করবেন। গবেষণায় শিশু সুরক্ষা, অবহিত সম্মতি, তথ্যের গোপনীয়তা এবং ‘ক্ষতি না করার’ নীতি অনুসরণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ও এ প্রোগ্রামের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ড. মো. নাসিফ আহসান এবং টিডিএইচ বাংলাদেশের কর্মকর্তা মোহাম্মদ এহসান উল ইসলাম চৌধুরী ও সুরজিৎ কুণ্ডু। এ সময় অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা তাঁদের গবেষণার বিষয় ও প্রত্যাশিত ফলাফল তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান, নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মো. জাকির হোসেন, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সালাউদ্দীন এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও টিডিএইচ বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।