দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

সুন্দরবনের বনদস্যু নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ সদস্যের আত্মসমর্পণ

23

মোংলা :

সুন্দরবনের বনদস্যু নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সদস্য মোংলায় কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৩টি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ জমা দিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করেন।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা (ঢাকা) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তারা বিভিন্ন ধরনের ১৩টি অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি, অস্ত্রের ম্যাগাজিন ও ছয়টি ওয়াকিটকি কোস্ট গার্ডের কাছে জমা দেন।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, আত্মসমর্পণের সময় জমা দেওয়া অস্ত্রের মধ্যে ছিল একটি এইট শুটার, একটি সিক্স শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি সাইড হ্যামার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এমথ্রি গ্যাস গান, দুটি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার ও দুটি এয়ারগান। এছাড়া ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মিমি পিস্তলের গুলি, পাঁচ রাউন্ড ৮ মিমি গুলি, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, চারটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগান ম্যাগাজিন ও ছয়টি ওয়াকিটকি জমা দেওয়া হয়।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬) খুলনা জেলার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া থানার বাসিন্দা। শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার এবং আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাটের রামপাল থানার বাসিন্দা।

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নানা ভাই বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং জেলে ও বাওয়ালীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর মোট ৩৭ জন সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

কোস্ট গার্ডের ওই কর্মকর্তা সুন্দরবনের সব সক্রিয় বনদস্যুকে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যদিকে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্দেশনা, সবার সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।