দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

কলকাতায় হোটেল বন্ধ, বিপাকে বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসাপ্রার্থীরা

21

বেনাপোল :

কলকাতায় আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জনের মৃত্যুর পর প্রশাসনিক অভিযানে একের পর এক হোটেল বন্ধ করে দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীরা। পরিচিত এলাকাগুলোর অনেক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেউ নতুন হোটেল খুঁজছেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফিরে আসছেন।

কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে প্রশাসনের অভিযানে একের পর এক আবাসিক হোটেল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এসব এলাকা বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসাপ্রত্যাশীদের কাছে দীর্ঘদিনের পরিচিত হওয়ায় হোটেল সংকটে তাদের ভোগান্তি বেড়েছে।

গত ১৯ আগস্ট রাত ২টার দিকে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর কলকাতা প্রশাসন বিভিন্ন হোটেল ও অতিথিশালায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা শুরু করে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে ৯১৯টি আবাসিক হোটেল ও অতিথিশালায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪১টির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামো সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা বিধি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ঘাটতি থাকায় অধিকাংশ হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশি পর্যটককে নতুন করে থাকার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। অনেকে এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে ঘুরছেন। নতুন হোটেলে কক্ষ পাওয়া গেলেও আগের তুলনায় বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। কেউ কেউ জানিয়েছেন, কোনো কোনো হোটেলে ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

ভারতফেরত পাসপোর্টধারী যাত্রী সোহেল রানা বলেন, “চিকিৎসার জন্য পরিবার নিয়ে ১৬ আগস্ট ভারতে গিয়েছিলাম। কলকাতার বড়বাজার এলাকার একটি হোটেলে ছিলাম। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর আবাসিক হোটেলগুলোতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে এবং অগ্নিনিরাপত্তায় ত্রুটি থাকলে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। আমরাও যে হোটেলে ছিলাম, সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আরও এক সপ্তাহ থাকার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু হোটেলের ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কারণে আগেই দেশে ফিরে এসেছি।”

ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া ফরিদপুরের পাসপোর্টধারী যাত্রী সুমন সাহা বলেন, “স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য পরিবার নিয়ে কলকাতা যাচ্ছি। কিছুদিন আগে একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এরপর অনেক হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে শুনছি। তাই কিছুটা আতঙ্ক নিয়েই যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে ঠিকমতো হোটেলে কক্ষ পাওয়া যাবে কি না, সেটিও চিন্তার বিষয়।”

এদিকে কলকাতার পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও হোটেল বন্ধের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নিউ মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশি পর্যটকদের ঘিরে আবাসিক হোটেল, খাবারের দোকান, পরিবহন, কেনাকাটাসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা গড়ে উঠেছে। করোনা মহামারির পর থেকেই নানা কারণে এসব ব্যবসায় মন্দাভাব রয়েছে। পর্যটক ভিসা চালুর পর যাত্রী সংখ্যা কিছুটা বাড়তে শুরু করলেও নতুন করে হোটেল বন্ধের ঘটনা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।

তবে কলকাতা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকা হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, গত কয়েক দিনের হিসাব অনুযায়ী আগের তুলনায় যাত্রী ফেরার সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে কী কারণে এই সংখ্যা বেড়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য তার কাছে নেই। দুই দেশের মধ্যে যাত্রী যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।