দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

সুন্দরবনে ৪ জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্যের আত্মসমর্পণ

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে সরকারের অঙ্গিকার

20

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যে একযোগে চারটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্য র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সুন্দরবনে সক্রিয় চারটি জলদস্যু বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয় নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন এবং আফতাব বাহিনীর ৮ জন সদস্য রয়েছেন। সব মিলিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন ৫২ জন।

র‍্যাব-৬ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে র‍্যাব। সুন্দরবনের ওপর জীবিকা নির্বাহকারী জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগের ফলে এর আগে সুন্দরবনের বিভিন্ন জলদস্যু ও বনদস্যু বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন দস্যুচক্রের তৎপরতা এবং পূর্বে আত্মসমর্পণকারীদের কয়েকজনের পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি বনজীবীদের অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মতো ঘটনাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে। এ পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার এবং দস্যুদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে র‍্যাব-৬সহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান বাড়ায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা, সুন্দরবনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং দস্যুজীবনের অনিশ্চয়তার কারণে বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পথ পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় চারটি বাহিনীর ৫২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।

র‍্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একযোগে চারটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্যের আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এর ফলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর সাংগঠনিক সক্ষমতা ও অপরাধমূলক তৎপরতা কমার পাশাপাশি সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ বনজীবীদের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সুন্দরবনে জলদস্যুতা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র‍্যাব-৬-এর অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে যথাসময়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে। এদিকে বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও বিচরণ নির্বিঘ্ন রাখা এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে প্রযোজ্য বিধিবিধান ও অনুমতি সাপেক্ষে সুন্দরবন পুনরায় পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।

একই সঙ্গে সুন্দরবনকেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থাকলে অবৈধভাবে কাঠ ও অন্যান্য বনজ সম্পদ আহরণ, বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচারসহ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সুন্দরবনের নিরাপত্তা, বনজীবীদের জীবন-জীবিকার সুরক্ষা এবং দেশের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে র‍্যাবের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।